প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে গরুর বর্জ্য বেত্রাবতী নদে, হুমকিতে জনজীবন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে গরুর বর্জ্য বেত্রাবতী নদে, হুমকিতে জনজীবন
ইছানুর রহমান, ঝিকরগাছাঃ এক সময়কার প্রবাহমান বেত্রাবতী নদ এখন মৃতপ্রায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলকারখানা এবং বাজারঘাটের বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য প্রতিদিনই প্রকাশ্যে ফেলা হচ্ছে এ নদে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার প্রতিনিয়ত নদ,নদী, খাল-বিল ও হাওড় ইত্যাদির পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করছেন। কিন্তু এ নদে বর্জ্য ফেলা বন্ধ ও ময়লার ভাগাড় সরানোর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাই নদের পানি দূষণ ও পরিবেশ ক্রমেই মারাত্মক স্বাস্থ ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। শার্শা ও ঝিকরগাছা দুই উপজেলার সীমানায় অবস্থিত বেত্রাবতী নদ। এজন্য এই নদটি দুই উপজেলার মানুষই ব্যবহার করে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শার্শার বাঁগআচড়া বাজারের একাংশের বর্জ্য ফেলা হয় বেত্রাবতী নদে। অন্য দিকে ঝিকরগাছার শংকরপুর ফেরিঘাট বাজারের ময়লা আবর্জনাও ফেলা হয় এ নদে। এর ভেতর  কসাইখানার রক্ত ও বর্জ্য, পোল্ট্রি মুরগির দোকানের ময়লা, বাজার পরিষ্কার করে কাগজ ও বিভিন্ন প্রকারের বর্জ্য পদার্থসহ অন্যান্য ময়লা নদে ফেলা হচ্ছে। এতে বেত্রাবতী নদ রুপ নিয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। হারাচ্ছে নদের নাব্যতা। হুমকির মুখে পড়েছে নদের জীববৈচিত্র্য। ময়লায় নদের পানিতে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ। মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ।
এ ব্যাপারে শংকরপুর ফেরিঘাট বাজার কমিটির সভাপতি পলাশ বলেন, যে নদের পানি একসময় মানুষ পান করতো, ওজু-গোসল, জামাকাপড় পরিষ্কার করতো, রান্নার কাজে ব্যাবহার করতো এখন সে নদের পানিতে দুর্গন্ধ।  দূষিত গন্ধে নদের পাড়ে দাঁড়ানোই যায় না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নদে বর্জ্য ফেলা ও নদের জায়গা দখলে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা।
জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) কাজী নাজিব হাসান বলেন, বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করুন। তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিলে অবশ্যই আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছার উদ্দীন বলেন, আমার ইউনিয়নে কোনো বড় বাজার নেই। আর ফেরিঘাট বাজারে গরু জবাই করা হয় না। বাঁগআচড়া বাজারে গরু জবাই হয়। তারা এসব বর্জ্য নদীতে ফেলে। তবে শুনেছি শংকরপুর ফেরিঘাট বাজারের পোল্ট্রি মুরগির দোকানের ময়লা নদে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আগামী রোববার মিটিংয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
সংবাদ প্রতিনিধি

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।