ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিল্পী খাতুন (৩৫) নামের এক প্রসূতি গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বারবাজার এলাকার নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিল্পী খাতুন উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী। তবে প্রসূতির মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে নবজাতক শিশুটি বেঁচে গেছে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় প্রসবের জন্য শিল্পী খাতুনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল এবং সব পরীক্ষা নিরীক্ষাও ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই হঠাৎ কী এমন পরিস্থিতি হলো যে রোগীর প্রাণ হারাতে হলো?
এঘটনার বিষয়ে নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ইসলাম হোসেন জানান, ওটির আগে শিল্পী খাতুন হঠাৎ বাথরুমে যান। সেখানে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে শিল্পী খাতুন মারা যান, তবে সিজারের মাধ্যমে নবজাতক শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ ফাতিমা আক্তার জানান, রোগী উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে শক বা তীব্র জটিলতার শিকার হয়েছিলেন। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই রুগী মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে মায়ের মৃত্যুর পরও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতক শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়। ওই অপারেশনে অ্যানেশেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডাঃ তানভিরুল ইসলাম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার বা পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রসূতি মৃত্যুর এই ঘটনায় নিয়মানুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



