আশাশুনিতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা

সচ্চিদানন্দদেসদয়,আশাশুনিঃ সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ব বৃহৎ উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। বাঙালী সমাজে সনাতন ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে শারদীয় দূর্গোৎসব সার্বজনীনে পরিনত হয়েছে। মহালয়ার মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আগমন ঘটেবে মর্তলোকে।

পূজা শুরু হবে আশ্বিন মাসের ১৫ তারিখ ইং ৩ অক্টোম্বর ২০১৯। মহাপঞ্চমী তিথিতে দেবীর বোধনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব।এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছে আশাশুনির মৃৎ শিল্পীরা। পড়েছে প্রতিমা তৈরির ধুম। প্রতিবারের ন্যায় এবারও আশাশুনিতে ১০৫ টি পূজা মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। পরম যত্নে পূজা মন্ডপে প্রতিমা ও মন্ডপ সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে আশাশুনির বুধহাটা কাছারি পাড়া পূজা মন্ডপ,আশাশুনি সদর পুজা মন্ডপ,বুধহাটা সুবর্ণ বনিক পাড়া পূজা মন্ডপ,মহেশ্বর কাটি পূজা মন্দির সহ আশাশুনির ১০৫ টি পূজা মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরি,মন্দির সাজানো সহ অন্য অন্য কাজ । ১১ টি ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় পুজার আমেজে মেতে উঠেছে সনাতন ধর্মালম্বীরা।

দোকানী রা সাজিয়েছে নিত্য নতুন কাপড় সহ পোষাক দিয়ে। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের বেড়েছে ব্যস্ততা। হাত সময় নেই তাই অনেক কারিগর রাত দিন কাজ করছেন। তাদের দম ফেলার সময় নেই। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করেও সঠিক পারিশ্রমিক না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করেন প্রতিমা কারিগররা।বিগত বছরের চেয়ে এবার প্রতিমা তৈরীর খরচ দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। আশাশুনির বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরীর মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, পূজা আরম্ভের দিন সন্নিকটে হওয়ায় প্রতিমা পূজা মন্ডপে তোলার উপযোগী করে তুলতে দিনরাত কাজ করছেন মৃত শিল্পীররা। বৃষ্টি থাকায় গ্যাসের ছোট চুলার তাপ দিয়ে প্রতিমা শুকানো হচ্ছে।যেসব প্রতিমা শুকানো হয়েছে সেসবে চলছে রং দেওয়ার কাজ।রং দেওয়া শেষ হওয়া প্রতিমাগুলাতে চলবে শাড়ী ও গহনা পড়ানের কাজ।বুধহাটা কাছারি পাড়া পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরী করছেন অরবিন্দু দাশ। তিনি গত বিশ বছর এ এলাকায় প্রতিমা তৈরী করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এবার তিন জন কর্মচারী ছয় সেট প্রতিমা তৈরী করছি।

রোদ কম হওয়া গ্যাসের হ্যান্ড চুলাই প্রতিমা শুকাতে হচ্ছে।প্রতিসেট প্রতিমা ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় অর্ডার পেয়েছি।পূজার শেষ সময় এসে গেছে। বলতে গেলে রাত দিনই কাজ করছি।কাজ প্রায় শেষ। অধিকাংশ প্রতিমায় রং দেওয়া খুব শিখগিরি শুরু করবো।মন্দিরের ভিতরে চলছে দেবীর প্রতিমা তৈরীর কাজ।আশাশুনির মহেশ্বরকাটি পূজামন্ডপের শিল্পী রবীন দাস বলেন, ‘ প্রতিমার রং লাগানোর পাশাপাশি কাপড় পড়াতে হবে। বিভিন্ন রংয়ের কাপড় থেকে বেছে নির্দিষ্ট রংয়ের কাপড় পড়িয়ে ট্রায়েল দিতে হবে। কোন কোন প্রতিমায় চার পাঁচ বার করে কাপড় বদলাতে হচ্ছে ।’

আশাশুনি উপজেলার সর্ব বৃহৎ পূজা অনুষ্ঠিত হবে বুধহাটা কাছারি বাড়ি পুজা মন্ডপ ও মহশ্বের কাটি পুজা মন্ডপে।বুধহাটা কাছারি বাড়ি পূজা মন্ডপের সাধারন সম্পাদক বাপী দেবনাথ বলেন, ‘এবার আমরা গতবারের চেয়েও বেশি টাকা ব্যয় করে প্রতিমা তৈরী করছি যাতে ভক্তরা এসে দেখে প্রশান্তি পায়।’বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আশাশুনি উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রনজিৎ কুমার বৈদ্য বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে আশাশুনিতে ১০৫ট মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলো মন্ডপ যাতে সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।