মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের অধীনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের থিমেটিক সভায় প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল ‘সোর্স থেকে শেলফ: বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে মানবপাচার মোকাবিলা’।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন, জাতীয় রেফারেল মেকানিজম শক্তিশালী করা, মানবপাচার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং অভিবাসী কর্মী ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মো. আসাদুজ্জামান কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন। বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মর্যাদা সুরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে। বৈশ্বিক শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ যেন শ্রমিক ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রেখে পরিচালিত হয় এবং শোষণের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারমন্ত্রী, ইউএনওডিসি ও ইন্টারপোলের নির্বাহী পরিচালকসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন।





