পরিবারের সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা সন্তানদের বাল্যবিবাহ, মাদক, যৌতুক ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। একটি জাতিকে দুর্বল করতে হলে তার যুবশক্তিকে দুর্বল করে দেওয়াই যথেষ্ট। তাই শিক্ষার্থীদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে নিজেদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আজ লালমনিরহাট সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কোনো ছাত্রী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়লে ভয় না পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। পারিবারিক সচেতনতা বাড়লে অনেক সামাজিক সমস্যা শুরুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
যৌতুকপ্রথার বিষয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিয়ের সময় যৌতুক গ্রহণের মতো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পরিবার থেকেই যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
যুবসমাজের মধ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ঘরে বসেই অনেক তরুণ অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ক্যাসিনোয় আসক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে মাদকাসক্তি, বেকারত্ব ও হতাশার কারণে অনেক তরুণ নিজেদের সম্ভাবনাকে নষ্ট করছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে যুবসমাজকে সৃজনশীল, গঠনমূলক ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এসব কার্যক্রমে প্রশাসনও সহযোগিতা করছে। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে এলাকায় মাদকসেবীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ইমাম মো. রাশেদুন্নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকালে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ত্রাণমন্ত্রী।
সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যুবসমাজ সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। তাদের অবদান প্রমাণ করেছে, ‘সাহসী যৌবনই সুন্দর আগামী’।
বর্তমান সময়কে উন্নয়ন ও উৎপাদনের সময় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে দেশপ্রেম, আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।





