ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া সরকারি চিঠিসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এসব প্রতিরোধে তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুল তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে পড়াকে মিসইনফরমেশন এবং কাউকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোকে ডিসইনফরমেশন বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর পাশাপাশি সরকারি তথ্য প্রকাশ ও গোপনীয়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও সংশ্লিষ্টদের জানা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এবং অফিশিয়াল সিক্রেট আইন ১৯২৩-এর বিধানগুলো পারস্পরিকভাবে পর্যালোচনা করে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য, তা স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য সহজে দৃশ্যমান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বর স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারি দপ্তরগুলোতে সম্ভব হলে নির্দিষ্ট অফিসিয়াল ফোন নম্বর চালু রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক।
আলোচনা সভায় তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রকাশের চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার এবং অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল। এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





