× Banner
সর্বশেষ
ক্ষমতা নয় মানুষের সেবা এই অঙ্গীকার ধারন করে নিরলসভাবে এগিয়ে চলেছেন মেয়র পদপ্রার্থী ইমদাদুল হক ইমদাদ শেখ হাসিনা ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে – আইনমন্ত্রী ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৯, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল-গুলি,ম্যাগাজিন, মোবাইল ফোন ও একটি সুইচ গিয়ার চাকু বেজার বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপনে ২১১ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন প্রতিবন্ধী ৩ ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইউনেস্কোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলা‌দেশ বেনাপোল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান পিন্টুর গণসংযোগ বেনাপোল দৌলতপুর সিমান্ত থেকে ১৬৯ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, অন্যায় করলে কঠোর ব্যবস্থা: হাটহাজারীতে আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নীরবতা নয়, চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

চট্টগ্রামে অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণ করছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

admin
হালনাগাদ: শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

রাজিব শর্মা, ক্রাইম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামে টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। পুলিশ প্রশাসনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এ টোকেন বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা। যুক্ত রয়েছে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলেরও কেউ কেউ।

চট্টগ্রামে টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে জেলার অটোরিকশা চলাচল করছে। নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার এটি একটা বড় কারণ। এসব অটোরিকশার কারণে নগরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে চরম যানজটের। জেলায় চলাচলকারী বৈধ ও অবৈধ (রেজিস্ট্রেশনবিহীন) প্রায় ৩৭ হাজার অটোরিকশাকে প্রতি মাসে ৪০০ টাকার টোকেনে এবং দৈনিক প্রতিবারই ১০ টাকা দিয়ে নগরীতে ঢুকতে হচ্ছে। অটোরিকশা থেকে টাকা আদায় গড়ে তোলা হয়েছে লাঠিয়াল বাহিনীও।

জেলা ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় ২৭ হাজার রেজিস্ট্রেশনভুক্ত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এর বাইরে আরও ১০ হাজারের বেশি রয়েছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি। জেলার এসব সিএনজি নগরীতে প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এদিকে সিএনজি অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্যের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। ঘটছে হতাহতের ঘটনাও।

এ প্রসঙ্গে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাপরিচালক মোজাম্মেল হক দি নিউজকে বলেন, টোকেন বাণিজ্য আগেও ছিল এখনও আছে। বরং টোকেন বাণিজ্য আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি বিস্তৃত। দেখা যায়, শ্রমিক-মালিক সংগঠন, ট্রাফিকের সার্জেন্ট এবং টিআইদের নামে টোকেন দেয়া হয়। এ টোকেন পেয়ে জেলার সিএনজিগুলো নগরীতেও ঢুকে পড়ছে। এ অবৈধ টোকেন বাণিজ্যে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর ও বন্দর) উপপুলিশ কমিশনার বলেন, ‘টোকেনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে- এমন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। প্রমাণ পাওয়া গেলে টোকেন বাণিজ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দি ক্রাইমের সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর প্রবেশপথগুলো দিয়ে জেলার সিএনজিগুলো নগরীতে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে তিনটি প্রবেশপথে সবচেয়ে বেশি টোকেন বাণিজ্য চলছে। স্পটগুলো হচ্ছে চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন এবং বাকলিয়া থানাধীন চাকতাই নতুন ব্রিজ মোড়। টোকেন না নিয়ে নগরীতে প্রবেশ করলে গাড়ি তুলে দেয়া হয় পুলিশের কাছে। পুলিশ ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে মোটা অংকের জরিমানা করে। না হয় গাড়ি ‘টো’ বা জব্ধ করা হয়। টোকেন ছাড়া নগরীতে প্রবেশের কল্পনাও করেন না সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। বাধ্য হয়ে প্রতি মাসে ৪০০ টাকা করে টোকেন কিনছেন। সরেজমিন আরও দেখা যায়, টোকেন দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে। যেমন- কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় টোকেন দেয়া হচ্ছে ‘চট্টগ্রাম জেলা অটো টেম্পু অটো রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের’ নামে। এলাকাটি মহানগরীতে হলেও টোকেনের বিনিময়ে এতটুকু আসার সুযোগ পাচ্ছে। এখানে টোকেন বাণিজ্য করছে হোসেন, রহিম ও সাহেদ সিন্ডিকেট।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অটোরিকশা চলে আসছে মইজ্জারটেক, চাকতাই নতুন ব্রিজ এবং বহদ্দারহাট পর্যন্ত। লক্ষ করলে দেখা যায়, সব অটোরিকশার সামনে লাগানো রয়েছে টোকেন। এখানে জসিম নামে চাকতাই এলাকার এক যুবলীগ ক্যাডার টোকেন বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মইজ্জারটেকের ইউসুপ, আমিন, সরওয়ার, আনোয়ারা চাতরী চৌমহনীতে নুরুল আলম, সাজ্জাদ, রফিক, বাঁশখালীর খোকন, বাইট্টা সেলিমসহ বেশ কয়েকটি গ্রুপ এসব বাণিজ্যে লিপ্ত। তাছাড়া জানা যায় দক্ষিন চট্টগ্রামের হারুনুর রশিদ বেশ কয়েকটি গ্রুপকে নিয়ন্ত্রন করেন। অপরদিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ অক্সিজেন অতিক্রম করে জেলার অটোরিকশা চলে আসছে মুরাদপুর পর্যন্ত। যার কারণে মুরাদপুর মোড়টিতে সব সময় যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।

ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক ও মালিকরা দি নিউজকে জানিয়েছেন, ৪০০ টাকা করে টোকেন নিতে হয়। মাস শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসীরা গাড়ির টোকেন চেক করে নতুন টোকেন ধরিয়ে দেয়। মাস শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী মাসের টোকেন নিয়ে নিতে হয়। তা না হলে তুলে গাড়ি দেয়া হয় থানা কিংবা ট্রাফিক পুলিশের কাছে। ট্রাফিক পুলিশ ওই গাড়িকে মামলার বিনিময়ে মোটা অংকের জরিমানা করে থাকে। অন্যথায় আইন লংঘনের দায়ে ওই অটোরিকশাকে ‘টো’ করা হয়। এর পাশাপাশি প্রতিদিনই যতবার রাস্তার মাথা, অক্সিজেন ও নতুন ব্রিজ থেকে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানো হবে ততবারই ১০ টাকা করে দিতে হয়। এভাবে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য করছে নিয়ন্ত্রণকারীরা। নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের প্রতিনিধিরা এ টাকা তুলছে। টাকা উত্তোলনকারীরা সব সময় লাঠি নিয়ে সক্রিয় থাকে স্পটে। যাতে তাদের ভয়ে চালকরা সহজে এ টাকা দিয়ে দেয়। নগরজুড়ে টোকেন বাণিজ্য হলেও পুলিশকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখছেন না চালকরা। চালক-মালিকদের দাবি, পুলিশের নাম ব্যবহার করে এ টাকা বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের টোকেনে তোলা হয়। এ টোকেন না নিলে পুলিশ মামলা দেয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে হয়রানি করে। টোকেন নিলে এ হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এতে বোঝা যায়, পুলিশও এ টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বেবি টেক্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী দি নিউজকে বলেন, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে টোকেন বাণিজ্য হচ্ছে। এর সঙ্গে মালিক সংগঠন জড়িত নয়। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এ টাকা চালকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। টোকেনের গাড়ি নগরীতে প্রবেশের কারণে যানজট বাড়ছে। সূত্রঃ ক্রাইম


এ ক্যটাগরির আরো খবর..