উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জে ভেজাল মশলাসহ ত্রানবাহী লিখা একটি ট্রাক আটক করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার সকালে নবীগঞ্জ শহরের মধ্য বাজারে ভেজাল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী বিপুল গোপ মালামাল তার গোদামে ঢোকানোর সময় উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর নুরে আলম সিদ্দকীর নজরে পড়লে তিনি ট্রাকটি আটক করে থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ প্রায় ১ শত ৫০ বস্তা ভেজাল মশলাসহ ট্রাকটি থানায় নিয়ে যায়।
সুত্র ও স্থানীয় লোকজন জানান, নবীগঞ্জ শহরের ভেজাল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী হালিতলা গ্রামের বাসিন্দা বিপুল গোপ দীর্ঘদিন ধরে শহরে ভেজাল মসলা,তেলসহ বিভিন্ন মালামালের আমদানি ও রপ্তানী করে আসছে। অল্প দিনের ব্যবধানে উক্ত বিপুল গোপ রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। শহরে গড়ে তোলেন ভেজাল ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট। প্রশাসনের চোখেঁ আঙ্গুল দিয়ে প্রকাশ্যে এ সব ভেজাল মাল বিক্রি করেন বিপুল গোপ। তার এ সব অপকর্মের নেপথ্যে রয়েছে বড় বড় গডফাদার।
সোমবার সকালে ভৈরব থেকে ত্রানবাহী লেখা একটি ট্রাক প্রায় দেড় শত বস্তা ভেজাল মসলা বোঝাই আবদানে করে নবীগঞ্জ মধ্য বাজারস্থ তার গোদামে ঢোকানোর সময় উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর নুরে আলমের নজরে পড়ে। তাৎক্ষনিকভাবে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজিনা সারোয়ারের সাথে যোগাযোগ করে মালামালসহ ট্রাকটি জব্দ করেন। এ সময় বহু অপকর্মের হুতা বিপুল গোপ গা-ঢাকা দেয়।
খবর পেয়ে এসআই কবির উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ,পৌরসভার স্যানেটারী ইন্সপেক্টর সুকেশ চক্রবর্ত্তী উপস্থিত হন।এ সময় বিপুল গোপকে বাচাঁনোর জন্য অদৃশ্য শক্তিরা প্রাণপন চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ট্রাক’সহ ভেজাল মসলা ভর্তি বস্তা আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। দোকানের মালিককে না পেয়ে দোকান ঘরটি তালাবদ্ধ করে সীলগালা করা হয়। পরে ব্যবসায়ী সমিতির জিম্মায় দোকান ঘরটি খোলে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজন ভেজাল ব্যবসায়ী বিপুল গোপের শাস্তি দাবী করেন।
বিশ্বস্থ সুত্রে জানাযায় ভেজাল মশলা ব্যবসায়ী বিপুল গোপের সাথে আরো ২/৩ জন কালোবাজরী ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে। এ ব্যাপারে স্যানেটারী ইন্সপেক্টর নুরে আলম জানান, উক্ত ভেজাল ব্যবসায়ী বিপুল গোপকে ধরার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
সোমবার হাতেনাতে ভেজাল মসলার ভর্তি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্রিয়া চলছে। এদিকে বিপুল গোপ নিজেকে বাচাঁতে নানা স্থানে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।