আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দৃশ্যত দম বন্ধ হয়ে আছে ওয়াশিংটন ডিসির। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচিত হচ্ছে যাচ্ছে আজ সোমবার। হোয়াইট হাউজে হিম বাতাস। কার হাতে পড়ছে হাত কড়া! প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাই ডারেড কুশনার, ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন, নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক সাবেক ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট নাকি অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে রাশিয়া কানেকশনে! এ নিয়ে ওয়াশিংটনে শিহরণ। যুক্তরাষ্ট্র তথা সারা বিশ্ব সচকিত তাকিয়ে আছে, কি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে! কোন পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাগ্য- তা জানতে। এক কঠিন সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে পরিস্থিতি এখন।
যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং এর সঙ্গে জড়িত ট্রাম্প টিমের গোপন তৎপরতা নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর গত শুক্রবারই এ মামলায় প্রথম চার্জ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সেই চার্জ বা অভিযোগে কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কি বলা হয়েছে- তা দৃশ্যত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্তও জানতে দেয়া হয় নি। আজ সোমবার ফেডারেল গ্রান্ড জুরি প্রথমবারের মতো এ অভিযোগ অনুমোদন দেবেন। ফলে এক বা একাধিক জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিকে কারাগারে যেতে হতে পারে। তা-ই যদি হয় তাহলে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার রাশিয়াগেট কেলেঙ্কারিতে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে। তা হবে হোয়াইট হাউচের জন্য বাস্তবেই এক বিপদজনক দুর্গতি। তবে রাশিয়া কানেকশন নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার টিম। এ নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে চাকরি হারিয়েছেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমি। তাকে বরখাস্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন স্পেশাল কাউন্সেল নিয়োগ করেছে রবার্ট মুয়েলারকে। এর বাইরে তদন্ত হচ্ছে কংগ্রেশনাল কমিটি থেকে। তদন্ত হচ্ছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তরফ থেকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন আজ সোমবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে। এতে যাকেই অভিযুক্ত করা হোক তাতে হোয়াইট হাউজ এক বিদঘুটে অস্বস্তিতে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তারা এতদিন বলে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্প টিমের জড়িত থাকার বিষয়ে বানোয়াট কাহিনীর জন্ম দিয়েছেন পরাজিত ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও তার টিম। এর সত্যতা, যথার্থতা প্রমাণ হয়ে যাচে আজ। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ বৃত্ত ও এর বাইরে পারিবারিক বৃত্তে আঘাত লাগতে পারে। এমনকি তার প্রেসিডেন্সিও পড়তে পারে মারাত্মক ঝুঁকিতে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ওই রবার্ট মুয়েলারের ওপর। তার রিপোর্টে কাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে এবং তার প্রতিক্রিয়া কি তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার দিকে লক্ষ্য রাখবে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাসী।