× Banner
সর্বশেষ
ফিলিপাইনে শুরু ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট নয়াদিল্লিতে ফের উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত ৫ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় ফের বাড়ল তেলের দাম, ব্রেন্ট ছাড়াল ৯৬ ডলার হাম ও ডেঙ্গুর দ্বৈত আতঙ্কে দেশ, বাড়ছে শিশু ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া র পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত চীনের ১ লাখ ডলার সহায়তা: বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ৬ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে – ককরোচ পার্টি

যশোরে শিক্ষকদের বিএড কোর্সে ডেপুটেশনে পাঠিয়ে ব্যাপক অর্থ বানিজ্য

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৭

ই.আর.ইমন,যশোর:যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিএড কোর্সে ডেপুটেশনে পাঠিয়ে ব্যাপক অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে। সিনিয়র শিক্ষকদের পরিবর্তে জুনিয়র শিক্ষকদের ঐ কোর্সে পাঠানো হয়েছে। আর এ বাবদ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিদের্শে উৎকোচের টাকা গ্রহণ করেছেন অফিস সহকারী জহির উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি যশোর সদর উপজেলার ১৮ জন শিক্ষক বিএড কোর্সে ডেপুটেশনে যাওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে কাছে ঐ আবেদন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। নিয়ম হচ্ছে, সিনিয়র শিক্ষকদের বিএড কোর্সে ডেপুটেশনে পাঠাতে হবে। কিন্তু কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে ৫ জন জুনিয়র শিক্ষককে ঐ কোর্সে পাঠান ।

সুত্র জানায়, যশোর রেলরোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার বিএড কোর্সে ডেপুটেশনের জন্য আবেদন করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু তাকে ঐ কোর্সে পাঠানো হয়নি। অথচ ২০০৩ সালে চাকরিতে নিযুক্ত হয়ে বালিয়াডাঙ্গা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুন্নাহার সালামা ও ভায়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসিরা খাতুন বিএড ডেপুটেশন কোর্সের গেছেন । এ ছাড়া কৃষ্ণবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার লাকী, রামকৃষ্ণ আশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্তা শিকারী ও কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিবুল আলমকে বিএড কোর্সে পাঠানো হয়েছে। অথচ তাদের থেকে সিনিয়র শিক্ষকদের ঠাঁই হয়নি ঐ  তালিকায়।

সুত্র জানায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিএড কোর্সে ডেপুটেশনে আগ্রহী শিক্ষদের তালিকা জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলে জুনিয়র শিক্ষকেরা শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদের অফিস সহকারী জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে জহির উদ্দিন ঐ ৫ জন শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে জেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের বিএড ডেপুটেশন কোর্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন। ১ জানুয়ারি থেকে বিএড কোর্সে ডেপুটেশনের ক্লাস শুরু হয়েছে।

সুত্র বলছে, বিএড কোর্সে ডেপুটেশনের জন্য যেসব শিক্ষকেরা আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে চাকরিতে যারা জুনিয়র শুধুমাত্র তাদেরই ঐ কোর্সে পাঠানো হয়েছে। কীসের ভিত্তিতে সিনিয়র শিক্ষকদের পরিবর্তে জুনিয়রদের স্থান করে দেয়া হলো তার কোন সন্তোষ জনক জবাব মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বিএড কোর্সে ডেপুটেশন বঞ্চিত শিক্ষকদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা বিভাগকে দুর্নীতি অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছেন। শুধু বিএড কোর্সের ডেপুটেশনে জুনিয়রদের পাঠিয়ে অর্থ আদায় নয়, বরং শিক্ষকদের বদলী, নতুন নিয়োগ, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের কাজগপত্র প্রস্তুত, বিদেশ গমনে পাসপোর্ট এর কাগজপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি অর্থ আদায় করে থাকেন। জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী জহির উদ্দিন শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে তাকে সহযোগিতা করে থাকেন। এজন্য জহির উদ্দিন শিক্ষা অফিসারের ‘কালেকশন ম্যান’ হিসাবে শিক্ষকদের কাছে পরিচিত।

শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়টি জানতে জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী জহির উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, প্রথমে তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা কালেকশনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় শুনে মূহুর্তের মধ্যে কথা পাল্টে বলেন,এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। এক পর্যায়ে তিনি তার অফিসে যাওয়ার আমন্ত্রন জানান( তার সাথে কথোপকথনের রেকর্ড সংশ্লি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে)।

অভিযোগের ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছি বলে পরে ফোন করতে বলেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে  খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..