× Banner
সর্বশেষ
দেশে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন নড়াইলের পল্লীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে খুন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল ডাসারে যৌতুকের নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় শাশুড়ী শ্রীঘরে  ডাসারে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নতুন বঙ্গভবন প্রধান কে? সক্রিয় মৌসুমি বায়ু: দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা রাজপথে ছড়ানো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনে সরকার বদ্ধপরিকর দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন: ভরিতে কমলো ৩৩২৪ টাকা

ওসিএলএসডি’র বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥ তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরকারি খাদ্য গুদাম পরিদর্শক (ওসিএলএসডি)’র বিরুদ্ধে বোরো ধান ও গম সংগ্রহে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নিতি ও কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে, বোরো সংগ্রহ ২০১৬ মৌসুমে সরকারের পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী অভ্যন্তরীন ধান, গম ও চাল সংগ্রহে চলতি মৌসুমে পাটকেলঘাটা খাদ্য গুদামে ৩০১৫ মেঃ টন ধান, ৪৩১ মেঃ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে মোতাবেক চলতি বছরের ৮ মে ধান ও গম সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়।

দুর্নিতি পরায়ণ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমান কৌশলে কৃষকদের আইওয়াশ করার জন্য সরকারি নির্ধারিত মুল্যে প্রতি কেজি ধান ২৩ টাকা এবং গম ২৮ টাকায় ক্রয় করা হবে বলে প্রচার পত্র বিলি করেন। এ খবর শুনে উপজেলার শতাধিক কৃষক খাদ্য গুদামে ধান বা গম বিক্রয় করতে এসে নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ায় প্রকৃত কৃষকরা নিরুৎসাহিত হন। এরপর শুরু হয় অনিয়ম দুর্নিতি ও ঘুষ বানিজ্যের মহোৎসব। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে পাটকেলঘাটা বাজারে গড়ে ওঠা গুটি কয়েক খাদ্যশস্য চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে টন প্রতি ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে ধান ও গম সংগ্রহ সম্পন্ন করেন। বঞ্চিত কৃষকদের অভিযোগ এতে ঐ দুর্নিতি পরায়ণ কর্মকর্তা কোটি টাকার উর্দ্ধে ঘুষ বানিজ্য করেছেন।

সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের ক্ষেতে উৎপাদিত ধান ও গম ন্যায্যমুল্যে সরকারি খাদ্যগুদামে ক্রয় করার কথা। কিন্তু তিনি এ সবের কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই নিজের পকেট ভরার জন্য কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যে মেতে ওঠেন। অনুসন্ধানকরে জানা গেছে, উপজেলার খলিষখালী গ্রামের নুরুল ইসলাম, তৈলকুপি গ্রামের গফ্ফার সরদার, পুটিয়াখালীর শেখর ঘোষ, দাদপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ, আজিজুল ইসলাম, মাহামুদপুর গ্রামের ইসাহক আলী সহ অর্ধশত কৃষকের অভিযোগ তাদের জমিতে উৎপাদিত ধান সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে এসে দুর্নিতিপরায়ণ কর্মকর্তার তালবাহানায় কৃষকরা অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে পাটকেলঘাটা বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হন।

এদিকে খাদ্যশস্য চোরাই সিন্ডিকেটের গুটি কয়েক সদস্যদের মাধ্যমে কৃষিকাজের সাথে সম্পৃক্ত নন টিকারামপুর গ্রামের নজরুল সরদারের স্ত্রী হাসিনা বেগম, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মরিয়াম বেগম, আজিজ বিশ্বাসের স্ত্রী সখিনা খাতুন, রোস্তম আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম, হায়দার আলীর স্ত্রী রুমা খাতুন, ইউপি সদস্যা হালিমা বেগম, পারকুমিরা গ্রামের নিষিৎ ঘোষের স্ত্রী রেখা রানী ঘোষ, কায়েমখোলা গ্রামের হরষিত মন্ডল, শুকতিয়া গ্রামের রুমা সরকার, স্বরসতী মন্ডল, দিলীপ মন্ডলের স্ত্রী দিপালী মন্ডল, রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কালিপদ ঘোষ, শহিদুল ইসলাম, চৌগাছা গ্রামের শেখ মনিরুজ্জামান সহ শত শত ব্যক্তির নামে ভূয়াভাবে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ করা হয়। খোজখবর নিয়ে আরও জানা গেছে, টিকারামপুর গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) পুত্র মান্নান সরদারের নামেও ভূয়াভাবে বিল ভাউচারের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়। এসব কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় টিপ স্বাক্ষর নেয়া হলেও খাদ্য গুদাম থেকে (ডব্লুকিউএসসি) অর্থ ছাড় করার সময় ভূয়া টিপ স্বাক্ষর দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যরা গ্রামের সহজ সরল কৃষকদের ভূল বুঝিয়ে কৃষিকার্ড সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট খুলে তাদের হাতে ৫’শ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চেকের পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর নেন। এরপর ঐ কর্মকর্তার যোগসাজসে প্রতি কৃষকের নামে একাধিকবার ৩ মেঃ টন করে ধান ঢুকিয়ে টন প্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যা দুর্নিতিবাজ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও চোরাই সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, যেসব কৃষকদের নামের একাউন্টে খাদ্য গুদাম থেকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে তাতে ব্যাংকের রেজিষ্টার এবং চেকের পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর করা হলেও অর্থ পরিশোধের (ডব্লুকিউএসসি) বিল ভাউচারে কোনো কৃষকের স্বাক্ষর নেই। প্রকৃত ধান ও গম চাষীদের বঞ্চিত করে অকৃষকদের ম্যানেজ করে তাদের নামের কৃষিকার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ভূয়া সই স্বাক্ষরে টাকা ছাড় করা হয়েছে। দুর্নিতিপরায়ন খাদ্য কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমান বিগত ২০১৪ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি এ কর্মস্থলে যোগদানের পর নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রচার অব্যাহত রাখেন।

খাদ্য মন্ত্রী, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি সহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছের লোক প্রচার দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি দম্ভোক্তিসুরে বলেন, খাদ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা তার কথায় ওঠে বসে! ক্ষমতাধর এ দুর্নিতিবাজ কর্মকর্তা একই বিভাগে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সুবিধামতো কর্মস্থলে নিয়োগ বদলির হাতও নাকি তার আছে। তার বিরুদ্ধে সদ্য সম্পন্ন হওয়া বোরো ধান ও গম সংগ্রহে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..