× Banner
সর্বশেষ
স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন, ট্রেনের নিচে তরুণী জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে হবে – শিল্পমন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যশোর সিমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্যসহ আটক-১ বাঁশখালীকে বন্যা মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে – ত্রাণমন্ত্রী হাওরে বাড়বে মাছের অভয়াশ্রম, ইজারা প্রথা বাতিলের উদ্যোগ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী তরুণদের নেতৃত্বেই টেকসই হবে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন – তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান, যাত্রী হয়রানি বন্ধের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার

৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা

ACP
হালনাগাদ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা
৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা। ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর মর্মবেদনা। অসহায় রেহানার পাশে দাঁড়িয়ে তার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ঘরভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার দুর্দশা দেখে প্রতিবেশীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আর্থিক অনটনে তা আর পূর্ণতা পায়নি। মাথার ওপর টিন আর চারপাশে বেড়া না থাকায় তীব্র রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই অনাবৃত কাঠামোর নিচে দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কান্নাকাটি করে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে সে তার চুল বিক্রি করেছে।

রহিম শেখ বললেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানালেন, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার সন্তানদের নিয়ে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি সরকারের কাছে একটু নিরাপদে থাকার জন্য সহায়তার আকুতি জানাচ্ছি।’

অসহায় এই পরিবারটির দীর্ঘদিনের অবসান ঘটাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..