গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল দলিল লেখার অভিযোগে দুই দলিল লেখককে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।
বহিস্কৃত দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার বংকুরা গ্রামের মৃত নেহাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন শেখ ও কাঠি গ্রামের মৃত শহীদুল শরীফের ছেলে মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ।
গত মঙ্গলবার উপজেলা সাব—রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এই দুই দলিল লেখককে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেন।
একই সাথে এই দুই দলিল লেখককে কেন স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করা হবে না তার জন্য কারণ দশার্নোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলেছেন সাব—রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি এই দুই দলিল লেখকের স্থায়ী বহিস্কার দাবী করেছেন।
জানাগেছে, সম্প্রতি কোটালীপাড়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলসহ কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জাল দলিল লেখার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন।প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এই দুই দলিল লেখককে সাময়িক বহিস্কার করেন।
বহিস্কৃত দলিল লেখক মিজানুর রহমান বুলবুল বলেন, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের মৃত ফহম মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম দলিল ও পর্চার কাগজ নিয়ে আমার কাছে দলিল করার জন্য আসেন। আমি দলিল করার সকল নিয়ম মেনে কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেনের কাছে কাগজপত্র জমা দেই। তিনি সকল কাগজপত্র দেখে দলিল রেজিষ্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে জানতে পারি আমেনা বেগম জাল কাগজপত্র দিয়ে দলিল রেজিষ্ট্রি করেছেন। এ ঘটনায় আমাকে সাময়িক বহিস্কার করেছে। এ ছাড়াও আমাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে আমি সেই নোটিশেরও লিখিত জবাব দিয়েছি।
সাময়িক ভাবে বহিস্কৃত আরেক দলিল লেখক নাসির উদ্দিন শেখ বলেন,কয়েক দিন আগে আমি একটি দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেনের কাছে কাগজপত্র জমা দেই। তিনি কাগজপত্র সঠিক নয় বলে জাল দলিলের অভিযোগ এনে আমাকে সাময়িক বহিস্কার করে এবং কারণ দশার্নোর নোটিশ দেয়। আমি ইতোমধ্যে সেই কারণ দশার্নো নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছি।
এ ঘটনার সত্যতা জানার জন্য আমেনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কয়েকজন দলিল লেখক দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জাল দলিল করে আসছে।এ সাথে অফিসের একটি চক্রও জড়িত। এদের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে শত শত মানুষ। তাই এই চক্রটির বিরুদ্ধে স্থায়ী ভাবে আইন অনুসারে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, দুই দলিল লেখক মিজানুর রহমান বুলবুল ও নাসির উদ্দিন শেখ দলিল রেজিষ্ট্রির সময় জাল কাগজপত্র উপস্থাপন করার কারণে তাদেরকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাদের কেন স্থায়ী ভাবে ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যদি এই দুই ব্যক্তি কারণ দর্শানো নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।