সরকারি বরাদ্দ মানেই যেখানে হরহামেষা হরিলুট আর দূর্নীতির চিত্র। সেই বাস্তবতায় বরিশালের গৌরনদীতে দেখা গেলো এক উল্টো ঘটনা। প্রকল্পের কাজ যথাযথ প্রক্রিয়ায় শেষ করে পৌনে এক কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
সততা ও স্বচ্ছতার বিরল এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম। সরকারী অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এখন প্রশংসা কুড়াচ্ছেন স্থানীয়দের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’-এর আওতায় গৌরনদী উপজেলার সরিকল ও বাটাজোর ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটার খাল পূন:খনন প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী ৫০ ফুট প্রস্থ ও ১৩ ফুট গড় গভীরতায় খালটি পূন:খনন করা হয়েছে।
সরিকল-বাটাজোর ইউনিয়নের একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন-দীর্ঘ বছর ধরে সরিকল-বাটাজোর খাল পূন:খনন না করায় মরা খালে পরিণত হয়েছিলো। এখন খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, বর্ষার পানি নিষ্কাশন হয়ে স্থানীয়রা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি ফসল ও দেশীয় প্রজাতীর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
এব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত নগদ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া এক ঘটনা বিরল। এরআগে আমরা কখনো এটা দেখিনি। প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পাঠিয়ে ইউএনও মহোদয় সততার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। রাষ্ট্রের সর্বত্রই এভাবে সততা ফিরে আসুক।
এবিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, কৃষকদের সেচ সুবিধা, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা ও গুণগত মান বজায় রেখে এই ১০ কিলোমিটার খাল পূন:খনন করা হয়েছে। তবে প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। যে কারনে কাজ শেষে ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সাশ্রয় হয়। পরবর্তীতে এ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সাশ্রয় হওয়া সব অর্থ মঙ্গলবাল (৪ আগষ্ট) সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ইউএনও আরও বলেন, সততা ও স্বচ্ছতা থাকলে প্রাক্কলণ থেকেও সাশ্রয়ী ভাবে মানসম্মত কাজ করা যায়। আমাদের পুরো টিম সেই চেষ্টা করেছি। টিমের সকল সদস্যদের আন্তরিকতায় প্রকল্পের কাজ শেষ করে সাশ্রয়ী অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত দিতে পেরেছি। সকলের সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের আগামী ৫ বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন, পূন:খনন কর্মসূচীর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর ১০ কিলোমিটার খাল পূন:খনন করা হয়। গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই খালের পাশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। এরইমধ্যে খালের দুই পাশে ৬ হাজার চারা রোপন করা হয়েছে।