নেপালের কয়েকটি জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির প্রশাসন। ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
অসন্তোষের সূত্রপাত হয়েছিল একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় লাউডস্পিকার বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে। ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কিছুতেই একটি ভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে দিয়ে যেতে দেয়া হবেনা সাথে ধর্মীয় পতাকা। এ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে বচসা তারপর মারামারি এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে যে পুলিশকে গুলি করতে হয়। এতে ঘটনাস্থলে ওম প্রকাশ মেহতা ও জয় প্রকাশ মেহতা নামে দুজন হিন্দু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলে সংঘর্ষ ৩/৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
নেপালে সাড়ে আট হাজার বছরের হিন্দুত্বকে যে মুছে ফেলার জন্য নুতন টার্গেট হিসাবে বেছে নেয়া হয়েছিল। নেপালে ৩/৪ দিন অতিবাহিত হতে চললো, গ্রামের পর গ্রাম জ্বলছে। প্রশাসন বুঝতেই পাচ্ছেনা নেপালে এত পরিমানে নুতন নুতন গ্রাম গজিয়ে উঠলো কিভাবে। কি তাদের পরিচয় তারা কি বংশপরম্পরায় নেপালের অধিবাসী না পার্শ্ববর্তী ভারত বাংলাদেশ থেকে এসে বসতি স্থাপন করেছে? এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে অসন্তোষ ছিলোই। তারই অগ্নিস্ফুলিঙ্গে এবার ঘৃতাহুতি পড়েছে।
প্রশাসন বেগতিক দেখে সেনাবাহিনী নামায় এবং ৪/৫টি জেলায় কার্ফু জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে।
ভারত থেকে যখন অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হচ্ছিলো এবং ১২টি রাজ্যে একযোগে ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজ হচ্ছিলো তখন ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়া অনেকে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছে কিন্তু যারা পাকিস্তান মায়ানমার থেকে এসেছিলো তারা পার্শ্ববর্তী নেপালকে বেছে নিয়েছিল। ভারতের সাথে নেপালের সীমান্ত বাংলাদেশের মতো অরক্ষিত থাকায় সহজেই অনুপ্রবেশ সম্ভব তাই ভারতের যত অনুপ্রবেশকারী সব নেপালে এসে ঘাটি বানিয়েছিল।
নেপাল হিন্দুরাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু তাদের অহংকার দিনদিনই হুমকির মধ্যে পড়ছিলো। তাই ধর্ম রক্ষা এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে নেপালের হিন্দুরা এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছে।