ঢাকা, ২৪ জুলাই: রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রথমে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে, এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও তফসিলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
তিনি জানান, শনিবার সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে রোববার অথবা পরবর্তী কার্যদিবসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন।
স্পিকার বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে স্পিকার জানান, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং সে সময় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।