ঢাকা: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ‘রাষ্ট্রপতি’ নিয়ে নতুন করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কৌতুহল। পারিবারিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠানো এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। নতুন বঙ্গভবন প্রধান কে?
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো ও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এ নিয়ে জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনা চলে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ: গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নিজের অসন্তোষ ও ‘অপমানিত’ হওয়ার অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।
সম্মানজনক বিদায়ের ইঙ্গিত: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার চাইলে তিনি পদে থাকবেন, অন্যথায় সম্মানজনক উপায়ে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে সে সংক্রান্ত আইনি ও সাংবিধানিক পথ খোলা রয়েছে।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? আলোচনায় একাধিক নাম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের খবরের পরপরই সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধান নাগরিক?
রাজনৈতিক অঙ্গন ও বঙ্গভবনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কিছু হেভিওয়েট নাম নিয়ে আলোচনা চলছে:
প্রশাসনিক কর্মকর্তা: বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আমলার নাম তালিকায় রয়েছে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান ও সিনিয়র নেতার নাম নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত নাম নিয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যেতে পারে।