দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (Floating Storage and Regasification Unit)-এ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা সমাধানের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সমস্যা সমাধান হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় তিনটি কূপ খননের জন্য ৭২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসি (Production Sharing Contract)-এর আওতায় নতুন দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গ্যাস চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধানের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে জ্বালানি বিভাগ।