× Banner
সর্বশেষ
শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী, ছাত্রদল নেতার প্রতিবাদ সরাসরি জাহাজ চলাচল চালুর বিষয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে আলোচনা স্বামীকে বাঁচাতে পানিতে নববধূর ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশই দেশের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি – শ্রম মন্ত্রী নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন পাইকগাছায় বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক চরম নাজেহাল ; খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলছে হাজারো মানুষ মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান মাদারীপুরে ডাল গবেষণা কেন্দ্রে প্রকল্পের কাজ না করে পুরো বিল আত্মসাৎ, ঘটনাস্থলে এমপি বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ  শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উৎযাপন

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম ধরা পড়লে পরীক্ষকরা শাস্তি পাবেন – শিক্ষামন্ত্রী

ACP
হালনাগাদ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন ‘নতুন নিয়মে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদেরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে চলে গেলেন আর কেউ খবর রাখল না—এবার আর সেটি হবে না। অতীতে আমরা দেখেছি অনেকে খাতার ভেতরে নম্বর পরিবর্তন করে জালিয়াতি করতো। সেজন্য এবার আমরা পরীক্ষা খাতা পুনর্মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা এই আইনের মধ্যে রেখেছি। পরীক্ষকেরা সঠিকভাবে খাতা দেখছেন কি না, ওভার-মার্কিং বা আন্ডার-মার্কিং করছেন কি না, তা যাচাই করতে বোর্ডগুলো থেকে খাতা নিয়ে ধারাবাহিক পরীক্ষা (র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং) করা হবে। কোনো পরীক্ষকের গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরীক্ষকদের ওপর কাজের চাপ কমাতে এবং সুন্দরভাবে খাতা মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এবার পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে জনপ্রতি খাতার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘১৯৮০ সালের আইনকে আমরা পুরোপুরি পরিবর্তন করেছি। যেখানে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও ম্যালপ্র্যাকটিসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষক বা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তা যদি এই অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে তাদের কঠিন শাস্তি (দণ্ড) পোহাতে হবে। প্রশ্নফাঁসের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ৩ সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে ‘বডি অন ক্যামেরা’ থাকবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া খবর ছড়ালে সাইবার আইনের আওতায় তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সালে নতুন কারিকুলামে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতির কারণেই শিক্ষার্থীরা কোচিংমুখী হয়। আমরা রেজাল্ট আউটের পরপরই দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে শিক্ষাবর্ষ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য ‘ইন-হাউস কোচিং’ বা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। যত্রতত্র গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোকে রেগুলেশনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এইচএসসি পরীক্ষাকে শিক্ষার্থীদের জীবনের ‘হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন’ ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ উল্লেখ করে পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে দেশের সর্বস্তরের জনগণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..