× Banner
সর্বশেষ
স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন, ট্রেনের নিচে তরুণী জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে হবে – শিল্পমন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যশোর সিমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্যসহ আটক-১ বাঁশখালীকে বন্যা মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে – ত্রাণমন্ত্রী হাওরে বাড়বে মাছের অভয়াশ্রম, ইজারা প্রথা বাতিলের উদ্যোগ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী তরুণদের নেতৃত্বেই টেকসই হবে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন – তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান, যাত্রী হয়রানি বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারকে বিশ্বমঞ্চে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে — ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী

ACP
হালনাগাদ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকার কক্সবাজারকে একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মূল দর্শন হলো—কক্সবাজারের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে একে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, আধুনিক এবং বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা।

গতকাল রাতে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সাথে এক মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের সার্বিক উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা আধুনিক হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্ট নির্মাণের জন্য বিশেষ জোন সুনির্দিষ্ট করার কাজ করছি।

আমাদের সরকার শুধু সমুদ্রসৈকত কেন্দ্রিক পর্যটনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কক্সবাজারের সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করে সুপরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম ব্যবস্থার প্রসারে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি জোরদার করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।”

এর আগে গতকাল বিকেলে কক্সবাজারের কলাতলী বিচে আয়োজিত এক জমকালো অনূর্ধ্ব-১৫ বিচ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

টুর্নামেন্টের বিষয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকমুক্ত ও সুস্থ জাতি গঠনে এবং বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক ঘোষণা দেন যে, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত করতে এখানে ‘সাফ বিচ গেমস’ আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলা নিয়েও পর্যায়ক্রমে এই বিচ গেমস অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

উক্ত অনূর্ধ্ব-১৫ বিচ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগেই ময়মনসিংহ জেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম বিভাগ।

কক্সবাজার সফরকালে চার প্রতিমন্ত্রী সরকারের মেগা প্রকল্প ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর’ কাজের বর্তমান অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, আজ শনিবার (১৩ জুন) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি কক্সবাজার সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের পূর্ব প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই প্রতিমন্ত্রীগণ এই সমন্বিত পরিদর্শন সম্পন্ন করছেন।

বিকেলে কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত এলাকায় পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিন প্রতিমন্ত্রী—ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মোহাম্মদ শরিফুল আলম। পরিদর্শনের সময় তাঁরা সাধারণ পর্যটকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং সৈকতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।

মতবিনিময়কালে সাধারণ পর্যটকরা সৈকতের বর্তমান আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সার্বিক সেবার মান আরও উন্নত করার অনুরোধ জানান। প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ পর্যটকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ও এর পরিধি বাড়াতে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..