× Banner
সর্বশেষ
সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত আজ ২৪ জুলাই বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় সকাল ৯টার মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ২৪ জুলাই শুক্রবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী

সৌদি আরবে খাদ্য সংকটে শতাধিক বাংলাদেশি

admin
হালনাগাদ: শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১৬

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই কাজ করে সৌদি আরবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত পড়তে থাকায় সৌদি আরবে বহু কোম্পানিতে কাজ বন্ধ হতে শুরু করেছে গত বছর থেকেই। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিকও পড়েছে খাদ্য সংকটে।

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি শোচনীয় অবস্থা নির্মাণ সংস্থাগুলোর। অনেক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের হঠাৎ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেকে মাসের পর মাসে বেতন পাচ্ছে না, শ্রমিকদের জন্য নির্মিত শিবিরগুলোতে তাদের দিন কাটছে প্রায় অভুক্ত অবস্থায়।

সৌদি আরবে আটকাপড়া শ্রমিকদের একজন ফরিদপুরের মিজানুর রহমান। আঠারো বছর ধরে তিনি সেখানে কাজ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে কাজ হারানোয় এবার তাঁর দিন কাটছে কোনো রকমে একবেলা খেয়ে।

টেলিফোনে মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এখন একবেলা খানা খাই। তিন বেলার খাবারের জায়গায় দিনের মধ্যে একবেলা খাই। ভারতের কিছু বড় বড় কোম্পানি আছে তারা সাহায্য করছে। তারা মূলত ভারতীয়দের সাহায্য করছে, সেখান থেকে আমরাও কিছু কিছু পাই।’

মিজানুর রহমান জানান, যেখানে তিনি কাজ করতেন সেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপাইন ও শ্রীলংকার শ্রমিকরা কাজ করত। এক বছর আগে কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। চার মাস ধরে খাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইসলামী দাওয়াত সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রমজান মাসে খাবার দিয়েছিল। এরপর আরেকটি কোম্পানি কিছু চাল-ডাল দিয়ে যায়। পাকিস্তান ও ভারতীয় কোম্পানি সাহায্য করেছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘এমন করুণ অবস্থা যে কারো কাছে এক টাকাও নাই।’

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিবে কীভাবে? দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা এসে দেখেনি আমরা কী অবস্থায় আছি? খেয়ে আছি, নাকি না খেয়ে আছি- সেটা এসে কেউ দেখে নাই। শুধু বলে আসব আসব।’ তিনি আরো বলেন, ‘কারো আকামা নাই। আকামা ছাড়া গেটের বাইরে যাওয়া যায় না। গেটের বাইরে গেলেই পুলিশ আক্রমণ করে। একবার পুলিশ ধরলেই ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো মন্ত্রী বা বড় কোনো বড় মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো একটা কিছু হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে কাজ করতে পারি, তা বদলি হতেও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাগে। মানুষ খেতেই পায় না এত টাকা কোথা থেকে দিব?’

আরেকজন বাংলাদেশি শ্রমিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকার আব্দুল করিম জানান, ১৪০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক এখন এ অবস্থায় আছে।

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শ্রমিক, যারা সে দেশে বেকার রয়েছেন, তারা যাতে অন্য চাকরিতে ঢুকতে পারে বা দেশ ত্যাগ করতে পারে সে লক্ষ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।

ভারতীয় শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় আট হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। তবে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে সে দেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং এখন জেদ্দায় রয়েছেন। পাকিস্তানেরও কয়েকশ শ্রমিক এখন সেখানে কর্মহীন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..