× Banner
সর্বশেষ
৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: নির্বাচন কমিশনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতির প্রত্যেকটি কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার -এমপি খোকন তাালুকদার সবার আগে বাংলাদেশ সেটা মাথায় রেখে সকলের কাজ করতে হবে -এমপি খোকন তালুকদার পাইকগাছায় জগন্নাথদেবের উল্টোরথযাত্রা উৎসব সম্পন্ন  লক্ষ্মীপুরে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি বনবিভাগের অভিযানে উদ্ধারকৃত ৭৭ বস্তা ঝিনুক মালঞ্চ নদীতে অবমুক্ত সবুজ বেনাপোল গড়ার প্রত্যয়ে বিএনপি নেতা ভারতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কার্যক্রম

নারায়ন দেবনাথ

দেশে অন্তত ১৫০০ বিধর্মী শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করিয়েছে আন্দোলনকারীরা

Kishori
হালনাগাদ: বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪
বিধর্মী শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য

বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে সারা বাংলাদেশে সুপ্রিমকোর্ট থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন একটি স্কুলের বিধর্মীদের চাকরি থেকে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে শরিয়া শাসন কায়েমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা উদ্যোগী হয়েছে।  সারাদেশে এ পর্যন্ত অন্তত বিধর্মী ১৫০০ শিক্ষককে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করিয়েছে।
সারা দেশে বিধর্মী হিন্দু শিক্ষকদের যেভাবে পদত্যাগে বাধ্য করানো হচ্ছে তাতে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব বিলুপ্তি শুধু সময়ের ব্যাপার।

বাংলাদেশ প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড.সত্য প্রসাদ মজুমদার, খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে,  খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.বঙ্গ কমল বসু, ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে পদত্যাগে বাধ্য করনোর নামে স্কুলের বাইরে গাছে বেধে রাখতে দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরকে পদত্যাগ পত্রে সই করিয়ে তার রুমে কোরান তেলাওয়াত করা হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিসহ ৬৭জন অধ্যাপককে পদত্যাগ করনো হয়েছে। যশোরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হিন্দু প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়েছে।

এমনি ভাবে সারাদেশে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০০ শিক্ষককে আন্দোলনকারীরা পদত্যাগ করাতে বাধ্য করিয়েছে। এমন একটি তৎপরতার নামে কার্যত হিন্দুদের টার্গেট করা হয়েছে। কারণ এখনো বাংলাদেশে শিক্ষা-কার্যক্রমে হিন্দুদের আধিপত্য সর্বজনবিধিত। এখন হিন্দুদের উৎখাত করে দেশে একশত ভাগ ইসলামি শাসন কায়েম করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে হিন্দুরা কার্যত নজিরবিহীন অত্যাচারের স্বীকার। স্বাধীনতার পর হিন্দু শিক্ষকদের এতটা অসম্মান ও অমানবিকতার সম্মুখীন হতে হয়নি। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে হিন্দুরা নিজেদের সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দুদের কাপড় খুলে তার ধর্ম পরীক্ষা করা হতো। আবার কি সেই অবস্থা ফিরে এলো? হিন্দুদের এতটা অসহায় অবস্থা আগে কখনো পড়তে দেখা যায়নি।
একই ভাবে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পরও বিধর্মীদের দেশ ছাড়তে আদেশ দেয়া হয়েছিল।পরবর্তীতে ভারত সরকার বিমান বাহিনীর দেবীশক্তি বিমান পাঠিয়ে সেদেশ থেকে শিখ হিন্দু ও জৈনদের তুলে এনেছিলেন।
বাংলাদেশে সে পরিস্থিতি অতি নিকটে কিনা এখনো বলা যাচ্ছেনা তবে বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং হিন্দু নির্যাতন নিয়ে ভারত সরকার সর্বোচ্চ সক্রিয়তায় রয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে কথা বলেছেন এবং ক্যাবিনেট মিটিং করে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন।
দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়েছে।  ড: মুহাম্মদ ইউনুস যেদিন দেশে এসেছিলেন সেদিন বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন,
“আমাকে যদি আপনারা চান তাহলে আমার কথা শুনতে হবে।যদি না চান তাহলে বিদায় দেন,আমি আমার কর্মস্থলে চলে যাই”।
এখনো পর্যন্ত সারাদেশে অরাজকতা নিয়ে ড:ইউনুস টুশব্দটি করেননি।পদক্ষেপ নেয়া তো দূরস্ত।যতই দিন যাচ্ছে ততই ড:ইউনুসের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসছে।
উল্লেখযোগ্য শিক্ষক গুলোর তালিকাঃ

১। অধ্যাপক ড.সত্য প্রসাদ মজুমদার,উপাচার্য, বুয়েট

২।প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার, উপাচার্য, খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)

৩।অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর,, উপাচার্য,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ,ত্রিশাল

৪।প্রফেসর বেনু কুমার দে, উপ-উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

৪। অধ্যাপক ডা.বঙ্গ কমল বসু, অধ্যক্ষ, গাজী মেডিকেল কলেজ,খুলনা।

৫।অধ্যাপক ডা.কান্তা রায় মিমি, অধ্যক্ষ(সাবেক) এবং বিভাগীয় প্রধান, এনাটমি বিভাগ,এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ,দিনাজপুর।

৬।অদ্রীশ আদিত্য মন্ডল,অধ্যক্ষ, কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়, কয়রা খুলনা।

৭।অধ্যাপক অমিত রায় চৌধুরী,কোষাধ্যক্ষ,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

৮।সুবেন কুমার, আবাসিক শিক্ষক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

৯।দিলীপ কুমার,আবাশিক শিক্ষক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১০।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী,ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজ,বেইলী রোড।

১১।অধ্যাপক ড. দীপিকা রানী সরকার, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট, জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়

১১। গৌতম চন্দ্র পাল,রসায়ন বিভাগ,আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ,আজিমপুর, ঢাকা।

১২। ভবেশ চন্দ্র রায়,অধ্যক্ষ, পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ,ঠাকুরগাও

১২।দীপন দত্ত,অধ্যক্ষ,কিশোরগঞ্জ নার্সিং কলেজ

১৩।বিউটি মজুমদার, অধ্যক্ষ,ফেনি নার্সিং কলেজ

১৪।আলপনা বিশ্বাস, অধ্যক্ষ,জহরুল হল নার্সিং ইন্সটিটিউট

১৫।খুকু বিশ্বাস, অধ্যক্ষ,যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউট

১৬।তাপসী ভট্টাচার্য,অধ্যক্ষ, আনোয়ার খান মর্ডান নার্সিং কলেজ

১৭। রাধা গোবিন্দ প্রধান শিক্ষক, কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের আশরাফ আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।

১৮। সোনালী রানী দাস, সহকারী অধ্যাপক(নার্সিং) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, মগবাজার ঢাকা


এ ক্যটাগরির আরো খবর..