মধুখালী প্রতিনিধিঃ হ্যালো স্যার আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন, গ্রামীণ ফোনের লটারীতে আপনার একটি গাড়ী, ফ্লাট, নগদ টাকা পেয়েছেন। আপনি খুব সৌভাগ্যেবান ব্যাক্তি, তাই আপনাকে এ পুরস্কার নিতে হলে এখনই এ নম্বরটিতে বিকাশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট টাকা দিন।
কাউকে বললে সে আপনাকে নিষেধ করবে। আবার কখনোও গভীর রাতে সুমধুর নারী ও পুরুষ কন্ঠে নানা ধর্মীয় ও স্বর্ণালংকার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। আবার নারীরা প্রেমের অভিনয় করে হাতিয়ে নেয় অর্থ। এভাবেই গ্রামীণ, টেলিটক, সিটিসেল, বাংলালিংক, রবিসহ বিভিন্ন সিমকার্ড ব্যবহার করে প্রতারনা করে আসছে একটি গ্রামের নারী-পুরুষ। এটি কোন বাংলা সিনেমার বা কাল্পনিক গল্প নয়। তাই এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ওই গ্রামে নারী-পুরুষ সবাই রাতে অফিস করে থাকেন। এটি কোন সরকারী অফিস নয়। যা প্রশাসনের সবাই অবগত। এ গ্রামের নাম ডুমাইন। ডুমাইন গ্রামটি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। পাশেই রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা ও মাগুরা জেলার শ্রীপুর ও মোহাম্মদপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেরা গড়াই নদীর কুলে অবস্থিত।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, ডুমাইন গ্রামের অনেকেই এ কাজে জড়িত আছেন। এরা দিনের বেলায় ঘুমায় আর রাতের বেলায় প্রতারনার কাজে লেগে পড়ে। তাদের মোবাইল ফোন চেক করলেই বোঝা যায় সে এ কাজে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনার কাজে জড়িত হয়ে পড়ার কারণে এর প্রভাব এখন ওই গ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্যে প্রশাসন অবগত থাকার কারণে প্রতিনিয়তই চলে অভিযান। তবে অভিযানে কোন লাভ হয় না। আটককৃতরা দুই-একদিন জেল খেটে আবার বেরিয়েই শুরু করে প্রতারনার ব্যবসা। অনেক সময় তাদের হামলার শিকার হতে হয়েছে পুলিশকে। পুলিশকে ম্যানেজ করেই এসকল প্রতারনার জাল বিস্তার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানিয়েছেন, প্রতারনার বিষয়টি এখন সাধারন মানুষ জানতে পারার কারণে প্রতারনার কৌশল পাল্টে দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিব, ডাক্তার, সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এ প্রতারনা রুখতে প্রশাসনকে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবী এলাকার সচেতন মানুষের। তারা এ অপবাদ থেকে মুক্তি পেতে চায়।
তারা আরো জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে বায়োমেটিক রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া সিম বন্ধ করে দেওয়া হবে সরকারী এ ঘোষনা কার্যকর হলে প্রতারনা হ্রাস পাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।
ওই গ্রামের বাসিন্ধা হারুন, রশিদ, মামুন জানান, এ গ্রামের বাসিন্ধা হওয়ার কারণে এলাকার বাইরে গিয়ে গ্রামের নাম বলতে পারি না। যদি কখনো ভুলে বলেই ফেলি লোকজন মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হয়তো ভাবে এরাও প্রতারনার সাথে জড়িত। শুধু তাই নয় কোন ছেলে মেয়ে বিয়ে দিতেও কম কষ্ট হয় না। তাই প্রতারকদের চিহিৃত করে অভিযান দাবী করেন সংশ্লিষ্ট এলাকা বাসি।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীনকে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল প্রতারনার কথা স্বীকার করে বলেন পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে আটক করে কোর্টের মাধ মে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়। বর্তমানে পুলিশে অভিযানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ আসাদুজ্জামান তপনকে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল প্রতারনা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আগে ভাইরাসের মত ছিল বর্তমানে জনসাধারনের সচেতনার কারনে এবং বিষয়টি যে প্রতারনা সেটা জেনে বুুঝেই এখন আর টাকা দেয় না সে কারনেই এখন মোবাইল প্রতারনা কমেছে।
ডুমইন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক শাকির আহম্মদ টোকন মোবাইল প্রতারনা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন এই মোবাইল প্রতারনাকে এবং এর সাথে যারা জরিত তাদেরকে ঘৃনা করি। প্রতারনার সাথে যারা জরিত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির জোর দাবী জানাই ।
এই প্রতিনিধিকে ভোর ৪টায় তার নিজ মোবাইলে ফোন করে বলে বাবা আমি আল্লাহর পীরের মাজার থেকে খাদেম বলছি –প্রতারনার বিষয়টি টের পেলে মোবাইলে কলরেকর্ডের বিষয়টি বুঝতে পেরে সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়।