× Banner
সর্বশেষ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে – ককরোচ পার্টি কালীগঞ্জে জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর যশোরে বিজিবির অভিযানে ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের ২ পিচ স্বর্ণবারসহ আটক-১ ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা -স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী শৈলকুপায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহত হরিণাকুন্ডুর সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘাটতির পর বেনাপোল কাস্টমসের নতুন লক্ষ্য ১০,৫৮৮ কোটি

নাম ধরে ডাকলেই পুকুর থেকে উঠে এসে হাত থেকে ভাত খায় কালী

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

রতি কান্ত রায়ঃ জমিতে চাষ করতে গিয়ে আলের ধারে পরিচয় হয় কালীর সাথে। তারপর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন ভারতের হাসনাবাদের মহিষপুকুরের বাসিন্দা দিলীপ দাস।

দুপুরবেলা পুকুরপাড়ে কালীকে ভাত দেওয়া হয়। পাড়ে গিয়ে নাম ধরে ডাকলেই ঘাটের কাছে এসে ভাত খেয়ে যায় কালী। কালী কোনো মানুষ নয়, এটি একটি কচ্ছপ।

প্রায় চল্লিশ বছর আগে কচ্ছপের ছানাটিকে প্রথমে বাড়িতে এনে দেশলাই বাক্সে ভরে রাখতেন দিলীপ দাস। তারপর থেকে এখনও তার পরিবারেই রয়েছে কচ্ছপটি।

বাড়ির পাশের পুকুরে একটু একটু করে বড় হয়ে উঠেছে। পরিবারের লোকজন তাকে আদর করে ‘কালী’ বলে ডাকেন। কালীর জন্যই এলাকাটি পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘কাটা কচ্ছপ পুকুরপাড়’ নামে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির ছেলের মতোই যত্ন করা হয় কালীকে। এক সময় প্রায়ই কালীকে পানি থেকে তুলে আনা হত। এখন তার ওজন প্রায় তিরিশ কেজি ছুঁই ছুঁই।

‘বাচ্চা বড় হয়ে গেলে যেমন আর কোলে নেওয়া যায় না, আমাদের কালীও এখন সে রকম বড় হয়ে গেছে। পুকুর থেকে তুলতে কষ্ট হয়।’ বলেন পরিবারের এক সদস্য।

ভাত ছাড়াও কলাপাতা, সজনে গাছের পাতা পুকুরে দেওয়া হয় কালীর জন্য। অসুস্থ হলে রয়েছে চিকিৎসক, ওষুধের ব্যবস্থা।

বাড়ির সদস্য ঝর্না দাস বলেন, ‘সম্প্রতি কালির গালে ঘা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। এখন কিছু দিন শক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না।’

পুকুরটিকে ঘিরে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু তবুও কালী এই পুকুর ছেড়ে অন্যত্র যায় না। পাড়াপড়শিরাও তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন।

কালীকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে ভিড় করেন। বাড়ির ছেলে নিপুল দাস বললেন, ‘‘হাসনাবাদ, খুলনা, বসিরহাটের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসেন আমাদের কালীকে দেখতে।’’

কয়েক বছর আগে বন দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কয়েক জন ব্যক্তি কচ্ছপটিকে নিয়ে যেতে এসেছিল। তবে তাদের ভুয়া পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পাটলি খানপুর পঞ্চায়েতের প্রধান পারুল গাজি বলেন, ‘বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে কী আছে জানি না, তবে ওরা সন্তান-স্নেহে কচ্ছপটিকে বড় করে তুলছেন।’

বাড়ির কর্তা মধু দাস বলেন, ‘কচ্ছপটির প্রতি আমাদের মায়ায় জড়িয়ে গেছে। ওকে খুব ছোট্ট অবস্থায় পেয়েছিলাম। শুনেছি কচ্ছপ অনেক দিন বাঁচে। একদিন আমরা থাকব না। কিন্তু আমার ছেলেপুলে-নাতি-নাতনিরা ওর দেখভাল করবে।’

কিন্তু বন্যপ্রাণী আইন দেখিয়ে কেউ যদি কচ্ছপটি নিয়ে যেতে চান? পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে বললেন, ‘এখান থেকে ওকে কিছুতেই নিয়ে যেতে দেব না। আমরা তো ওকে কষ্ট দিচ্ছি না। লালন-পালনই করছি।’


এ ক্যটাগরির আরো খবর..