ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কয়েকটি চুক্তি সম্পাদনের জন্য চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।পাশাপাশি শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ০৮টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। এটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির পালাম এয়ারফোর্স স্টেশনে অবতরণ করে।

৩-৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম সফর।
শেখ হাসিনা দুপুরে তাজমহল হোটেলের দরবার হলে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া ইকোনোমিক সামিট’ শীর্ষক ‘কান্ট্রি স্ট্যাটিজি ডাগালগ অন বাংলাদেশ’ এ অংশগ্রহণ করবেন।
একই দিন সন্ধ্যায় তিনি তার সম্মানে বাংলাদেশ হাই কমিশনের মৈত্রী হল ও বাংলাদেশ হাউসে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেবেন। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নৈশভোজের আয়োজন করবেন।
৪ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তিয়ানে আইসিটি মোরিয়ার ভারতীয় সিইওদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন। এছাড়াও তিনি আইসিটি মোরিয়ার কমল মহলে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (আবিবিএফ)’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং হোটেল তাজ প্যালেসের দরবার হলে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সমাপনী অধিবেশনে যোগ দেবেন।
সিঙ্গাপুরের উপ প্রধানমন্ত্রী হেং সুই কিয়েট বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
কর্মকর্তারা বলেন, নিউইয়র্কের ৭৪তম ইউএনজিএ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি যে ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, হায়দ্রাবাদ হাউসের বৈঠকে তারা সেই ইস্যুগুলোই পর্যালোচনা করবেন।
একই দিন, কয়েকটি এক্সচেঞ্জ অব এগ্রিমেন্ট ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং হায়দ্রাবাদ হাউস থেকে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে কয়েকটি প্রকল্প শুরু করবেন।
এর আগে ওই দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শংকর বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবস্থানকালীন বাসভবনে দেখা করবেন। শেখ হাসিনা একই দিন সরকারি মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দিবেন এবং হায়দ্রাবাদ হাউসে দর্শনার্থীদের বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।
ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি ও দেখা করবেন।
৬ অক্টোবর রোববার কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। চার দিনের সফর শেষে ওই দিনই রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরার কথা।



