× Banner
সর্বশেষ
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত আদালতে রাষ্ট্রপ্রতির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শেষ হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৩, মামলা ৪০ ১৫ বছরের কমবয়সী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবে না ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই ‘ফ্রেন্ডস’ বলা ভিডিওর বিশ্বরেকর্ড আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাহাবুদ্দিন, উঠবেন গুলশানে নিজ বাসায়

২১ আগষ্টে নিহতের সন্তান মিথিলা ব্যারিস্টার হয়ে পিতার খুনীদের ফাঁসি মঞ্চে নিতে চায়

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৬

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে: ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট নুসরাত জাহান মিথিলার বয়স ৯ মাস। তখন মিথিলার কাছে পৃথিবীর সকল মানুষই এক মনে হতো। কে ববা-মা তা বোঝার অনুভূতি তখনও মিথিলার জাগ্রত হয়নি। সেই মূহুর্তে পিতার অনাকাঙ্খিত মৃত্যু মনে জ্বালা না ধরালেও বড় হওয়ার সাথে সাথে বুঝতে পারে পিতার অভাব। যখনই বুঝতে শিখেছে তার পিতাকে কোন অশুভ পরাজিত শক্তির কালক্ষণে তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তখনই পিতার খুঁনীদের বিচারের মুখোমুখী দাড় করতে মনে আশা বাধে। তখই তার ব্যারিস্টার হতে ইচ্ছে হয়। তবে সুযোগ কোথায়?

২১ আগষ্টে পিতৃহারা মিথিলা পিতার অনুপস্থিতি অনুভব করে প্রতি ক্ষণে। পিতার শূণ্যতা নিয়ে মিথিলা জানায়, আমি মাদারীপুর শহরের একটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ সহ সমাপনী শেষ করে এবার ডনোভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি। আমার ইচ্ছা রাজধানীর কোন ভালো স্কুলে পড়ে ব্যারিস্টার হয়ে পড়াশুনা শেষ করবো। আমার পিতার খুনীদের বিচারের মুখোমুখী করে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাব। সেটা কিভাবে সম্ভব? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ২১ আগষ্ট আমাকে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছে তা ফিক্সড ডিপোজিট করে ব্যাংকে রাখা হয়েছে। প্রতি মাসে যে ৩ হাজার টাকা শিক্ষা খরচ দেয় তা বর্তমান শিক্ষা নামক ব্যাবসা প্রতিষ্টানের কাছে খুবই কম। আমাদের জন্য আবাসনের যে কথা বলেছে তারও কোন খবর নাই। আমিতো প্রধানমন্ত্রীর কাছে এত কিছু চাই না। আমার বাবা বেঁচে থাকলে সেই আমার জন্য সব করতো। আমার সহপাঠীদের বাবা আছে তার কত আদর করে তখন আমার খুব খারাপ লাগে। ঢাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করলেই আমি ঢাকায় ভাল স্কুলে পড়তে পারব আর ব্যারিস্টার হয়ে আমার পিতার খুঁনীদের বিচারের আওতায় আনতে পারবো। আমার পিতার বাড়ি আছে তবুও আমি মায়ের সাথে নানা বাড়ি থাকি। দাদা-দাদির একমাত্র ছেলে ছিল আমার বাবা। দাদা-দাদি আমাকে নানা বাড়িতে রেখে অনেক কষ্টে সময় কাটায় তবুও আমার ভাল চায় তার। তাদেও ইচ্ছা আমি ব্যারিস্টার হই।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুরের আইউব আলী মুন্সীর একমাত্র পুত্র নিহত লিটু মুন্সী। লিটু মুন্সী পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজ সেবা ছিল লিটু নেশা। লিটু ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ছিলেন। ইউনিয়নবাসী লিটুকে ভবিষ্যৎ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতো। লিটুর মৃত্যুতে এলাকাও শোকে শোকাহত। এলাকাবাসী জানায় লিটু ছিল এলাকার জন্য একটা উজ্জল নক্ষত্র। লিটুর শূণ্যতা মর্মে মর্মে উপলগ্ধি করে এলাকাবাসী।

লিটুর মা ফিরোজা বেগম বলেন, আমার বাবায় ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত আর্ষিকীতে ঢাকায় যায়। তার পরে আমার সাথে আর কথা হয় নাই। আমার বাবায় ২১ আগষ্ট মারা গ্রেনেট হামলায় মারা গেছে তা সকলেই জানতো কেউ আমারে বলে নাই। ওই দিন আমার বুকের ভিতর কেমন কেমন করতে ছিল। আমার বাবারে ফোন করার জন্য চান্দের বাজারের কাছে দবিরের কাছে যাই তবে কথা বলতে পারি নাই। পরে শুনেছি আমার বাবা আর নাই। সেই থেকে প্রতি বছরই ২১ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী আমাদে ডাকে। আমরাও নাতনি মিথিলাকে নিয়ে যাই। প্রধানমন্ত্রী আমার পাশে বসে। যতক্ষণ থাকি ততক্ষণ আমার বুক ও মাথায় হাত রাখে প্রধানমন্ত্রী। ৩ বছর আগে আমাকে ৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছে তা আমার নামে ব্যাংকে রাখছি। এখন প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা অনুদান পাই। ছেরে পাটের ব্যবসা করতো। পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জে বিছনা চাদরের দোকান ছিল তার কিছুই আমরা পাই নাই। এখনও প্রতিবছর আমার লিটুর কবরে ফুল দিতে নেতাকর্মীগণ আসে।

লিটুর বাবা আইউব আলী মুন্সী বলেন, জায়গা সম্পত্তি যা আছে তা চাষাবাদ করে লোকশান হয়। একজন শ্রমিকের হাজিরা প্রতিদিন ৫শত টাকা। নিজে কাজ করতে পারিনা তাই শ্রমিক দিয়েই সকল কাজ করতে হয়। মাসে ২ হাজার টাকা অনুদান পাই তাতে কিছুই হয় না। আমাকে যাদি ৫ হাজার টাকা দেয়া হতো তাহলে বুড়া বয়সে দুজনে ভাল থাকতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে আমাদের ৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছে। সে জানে দেশে চোর আছে তাই নিজ হাতেই দিয়েছে। আমার নাতনি ঢাকায় পড়তে চায় প্রধানমন্ত্রী যদি তার কোন ব্যবস্থা করতো তা হলে ভালো হয়।

লিটুর শ্বশুর বাড়ি মাদারীপুর পৌরসভা ভবনের পাশে। সেখানেই মায়ের সাথে নানা বাড়িতে থাকে নিহত লিটুর একমাত্র সন্তান মিথিলা। মিথিলাও সেখানে ভালই আছে। মা মাফিয়া ৫ বছর হলো পুনঃরায় বিয়ে করেছে। সে সংসারে আদিক নামে ৩ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। তবুও মিথিলার সার্বিক চিন্তা করে দুপক্ষের ২ সন্তানকে নিয়েই পিতার বাড়িতে থাকে। মিথিলার মা মাফিয়া জানায়, লিটুর পরিবারের সাথে তার ভাল সম্পর্ক আছে। লিটুর বাবা-মা বেড়াতে আসে আর সেও লিটুদের বাড়িতে যায়। এখন তার একটা ইচ্ছা মিথিলাকে ভালো কোন স্কুলে পড়াতে পাড়লে মিথিলারও ইচ্ছা পূর্ণ হতো। মিথিলা ব্যারিস্টার হয়ে পিতার হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে পারতো।

মিথিলার মামা আয়ারল্যান্ড প্রবাসী জুয়েল জানায়, যে দিন লিটু মারা যায় সেদিন ঢাকা থেকে এক লোক ফোন করে যানায় একজন লোক গ্রেনেট হামলায় মারা গেছে তার পকেটে এ ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। আপনাদের যদি কোন আত্মীয় হয় তাহলে ঢাকায় আসেন। আমি ঢাকা মেডিকেল গিয়ে লিটুর লাশ সনাক্ত করে নিয়ে আসি। তখনকার রাজনৈতিরক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কোন কথাও বলতে পারি নাই। এখন কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাই বলছি, আমর ভগ্নিপতিকে আর ফিরে পাবনা তবে তার একমাত্র সন্তান মিথিলাকে যেন তার ইচ্ছা পূরনের সুযোগ করে দেয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..