১৫ কিলোমিটার হেঁটেও তিন বেলা খাবার জোটে না সবজি চাচার

আরিফ মোল্ল্যা,ঝিনাইদহ: মাঠে কোন জায়গা জমি নেই। ভারী কাজও করতে পারেননা। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন কলার মোচাসহ নানা সবজীর ব্যবসা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ঈশ্বরবা গ্রামের তাহাজ মন্ডল(৬৫) বিভন্ন রকমের সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। দীর্ঘ ৩৫বছর ধরে তিনি কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কলার মোচা, কলাগাছের ভেতরের নরম শাঁস, বিভিন্ন প্রকারের সবজি বিক্রি করে আসছেন। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই কোন রকমে চলে যাচ্ছে ৫ সদস্যের সংসার।

শারিরিকভাবে দূর্বল হওয়ায় তাহাজ মন্ডল কোন ভারী কাজ করতে পারেন না। তাই রোজগারের জন্য তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন। তাহাজ উদ্দিনের ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে তোফাজ্জেল মন্ডল (৩৮) গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত । বাকি ৩ ছেলে ওবাইদুল (৩২), শহিদুল (৩০) ও মোত্তাকিন (১৮) পরের জমিতে কামলা খাটে। ওবাইদুল ও শহিদুল আলাদা থাকেন। তোফাজ্জেল ও মোত্তাকিন বাবা মার সাথে এক সাথে থাকেন।

তাহাজ মন্ডল জানান, সে যা আয় করে তাতে সংসারই চলেনা তারপর অসুস্থ্য ছেলের ঔষধ খরচের টাকা জোগাড় করতে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। তাই এ বয়সেও তাকে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন প্রকারের সবজি বিক্রি করতে তাকে প্রতিদিন প্রায় ১০/১৫ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। প্রতিদিন কলার মোচাসহ বিভিন্ন সবজি দু’টি ঝুড়িতে সাজিয়ে বাঁকে করে শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বিক্রি করেন।

প্রতিটি কলার মোচা ৫/৬ টাকা দরে বিক্রি হয়। কলার মোচাসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে যায়। তাহাজ মন্ডল জানান ৩০/৪০টি মোচা বিক্রি করতে তাকে অন্ততঃ একশ বাড়িতে ঘুরতে হয় । একই সাথে তিনি কলা গাছের ভেতরের নরম অংশসহ বিভিন্ন সবজিও বিক্রি করেন। তবে প্রত্যেক দিন সব সবজি বিক্রি হয়না তার। যেদিন সবজি বিক্রি কম হয় সেদিন তিন বেলা খাবার জোটেনা তার ।

তাহাজ মন্ডল জানান, কলার মোচা সংগ্রহ করতে তাকে বিভিন্ন গ্রামের কলাচাষীদের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। চাষীরা কলার মোচা বাবদ কোন টাকা পয়সা নেয়না । মোচা কাটার সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত থেকে তিনি বিনা মূল্যে ওগুলো সংগ্রহ করেন। কিন্তু সব সময় কলার মোচা পাওয়া যায় না। এ জন্য বর্ষার মৌসুমে কলমী শাক, হেলেঞ্চা শাক ও শাপলা বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।

পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে কলার মোচাসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করায় তাহাজ মন্ডল শহরের অনেকের কাছে সবজি চাচা হিসেবে পরিচিত। সদা হাস্যোজ্জ্বল তাহাজ মন্ডল বলেন, জীবনের বাকি সময়টুকু সুস্থ্য শরীরে এভাবেই কাটাতে চাই। একটু থেমে ম্লান হেসে বলেন, তবে বেশি দিন হয়তো আর এভাবে ঘুরতে পারবোনা। তাই স্থায়ী কোন ব্যবসার ব্যবস্থা যদি কেউ করে দিতো তাহলে হয়তো অসুস্থ্য ছেলেকে নিয়ে বাকি জীবন নিশ্চিন্তে কাটাতে পারতাম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।