× Banner
সর্বশেষ
৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত উত্তর ইরাকের খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার দাবি আজ ১১ শ্রাবণ মঙ্গলবারের রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ (১১ শ্রাবণ)  ২৮ জুলাই মঙ্গলবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে সরকার শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে বুথ ভাড়া মওকুফ করা হবে – বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শ্যামনগরে দুই ক্লিনিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা আগস্টে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ‘আবাসন মেলা’

হৃদরোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য ও শ্বাসকষ্ট রোগের কারণ

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

আমরা ঘরে, বাইরের কোলাহলপূর্ণ দুষিত পরিবেশে সর্বদা বিভিন্ন ধরণের চাপের মধ্যে থাকি যা আমাদের মনে একটা চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এই মানসিক উত্তেজনার কারণে আমাদের মনিপুর চক্রের সন্তুলন নষ্ট হয়ে যায়, ফলে এই চক্রস্থিত কষায় বৃত্তি খুব সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আর এই বৃত্তি তখন অনুকূল স্নায়ুতন্তুকে উত্তেজিত করে। এই উত্তেজিত স্নায়ুতন্তু এড্রিনাল গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে এড্রিনালিন হর্মোন নিঃসৃত হতে শুরু করেএই এড্রিনালিন গ্রন্থিরস রক্তে মিশে শরীরকে উত্তেজিত করে লড়ো নতুবা পালাওভাবে সাড়া দিতে। তাই এই ধরণের অত্যধিক এড্রিনালিন রস ক্ষরণ আমাদের হঠাৎ বিপদে ছুটে চলতে শক্তি জোগায়।

 

আমাদের অধিকাংশ চাপগুলি তখনই আসে, যখন আমাদের অহংবোধ কোন সত্যিকারের বা কাল্পনিক বিপদের সংকেত পায়। যখন অপমান, সমালোচনা বা অন্যের রক্তচক্ষু ইত্যাদি মানসিক আঘাতের ফলে আমাদের আত্মসন্মানবোধ আহত হয়। তখন আমরা এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হয় পালিয়ে যেতে চাই নতুবা এসবের বিরুদ্ধে লড়ে বদলা নিতে চাই। আর তা করতে পারলেই আমরা এই চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারি। কিন্তু আধুনিক সভ্য জগতে সাধারণতঃ আমরা দৈহিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে এই চাপ থেকে মুক্ত হতে পারি না, এগুলো আমাদের ভিতরে জমা হতে থাকে। ফলস্বরুপ আমাদের রক্তের চাপ বেড়ে যায়, হৃদকম্প শুরু হয়, শরীরের মাংস পেশী উত্তেজিত হয়, পাকস্থলী আলোড়িত হয়। কিন্তু আমরা আমাদের এই অনুভূতিগুলি কাউকে প্রকাশ করিনা, লুকিয়ে রাখি। আমাদের রাগ, হতাশা সব সব কিছু দমন করে রাখিবাইরে এমন ভাব দেখাই যেন কিছুই হয়নি, সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে।

আজকাল আমরা, ঘরে বা বাইরে কাজে সর্বদা এত বেশী চাপজনিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যে এই ধরণের উত্তেজনা সহ্য করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সব সময় একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব করি, দুশ্চিন্তায় থাকি কিন্তু এই ভিতরে জমে থাকা চাপা উত্তেজনাকে বার করার কোন রাস্তাই খুঁজে পাই না। আমরা সব সময়Red alert’ থাকি আর আমাদের সহানুভূতি সম্পন্ন স্নায়ুতন্তুও সর্বদা উত্তেজিত থাকে। আমরা সর্বদা কেমন যেন খিটখিটে, দ্বিধাগ্রস্থ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে থেকে থেকে আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলি। ফলে ক্রমেই আমরা কাজের অযোগ্য হয়ে পড়ি আর অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের জীবনকে উপভোগ করার সমস্ত শক্তিই যেন শেষ হয়ে যায়

এই অবস্থায় আমরা প্রায়ই দ্রুত সমাধান খুঁজি মদগাঁজাহেরোইনসিগারেটকফিড্রাগ ইত্যাদির মাধ্যমে। আমরা এই ভাবে নেশাগ্রস্থ হয়ে নিজেকে ভুলতে চাই, চাপকে ক্ষণিকের জন্যে দূরে সরিয়ে রেখে মনের শান্তি পেতে চাইকিন্তু কালক্রমে এগুলিই আমাদের চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কফির caffeine আমাদের রক্তের চাপ ও হৃদস্পন্দনকে বাধা দেয়, সিগারেটের নিকোটিন (nicotine) হার্ট ও ফুসফুসের রোগ তথা ক্যানসার তৈরী করে। আর মদ তৈরী করে লিভার, হার্ট ও মস্তিষ্কের রোগ।

আবার এই সব সঞ্চিত আবেগময় চাপা উত্তেজনা আমাদের দেহে স্থায়ী হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরণের psychosomatic লক্ষণ দেখা দেয়। যেমনক্ষুধামন্দ, অনিদ্রা, স্মরণ শক্তি কমে যাওয়া বা শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি। এই সাইকোসোমাটিক লক্ষণগুলি তখন শরীরের কোন একটা দুর্বল অঙ্গে ঘনীভূত হয়ে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমন হার্টের ধড়ফড়ানি, অম্লরোগ বা শ্বাসপ্রশ্বাসের কষ্ট। পরিশেষে এগুলি মারাত্মক ধরণের শারীরিক রোগে পরিণত হয়, যেমনহৃদরোগ, আল্‌সার, শ্বাসরোগ। এইগুলি আবার আরও অধিক মাত্রায় নতুন চাপের সৃষ্টি করে এই রোগগুলিকেই বাড়িয়ে দেয়


এ ক্যটাগরির আরো খবর..