× Banner
সর্বশেষ
৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: নির্বাচন কমিশনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতির প্রত্যেকটি কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার -এমপি খোকন তাালুকদার সবার আগে বাংলাদেশ সেটা মাথায় রেখে সকলের কাজ করতে হবে -এমপি খোকন তালুকদার পাইকগাছায় জগন্নাথদেবের উল্টোরথযাত্রা উৎসব সম্পন্ন  লক্ষ্মীপুরে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি বনবিভাগের অভিযানে উদ্ধারকৃত ৭৭ বস্তা ঝিনুক মালঞ্চ নদীতে অবমুক্ত সবুজ বেনাপোল গড়ার প্রত্যয়ে বিএনপি নেতা ভারতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কার্যক্রম

হিন্দু মুক্তিযোদ্ধাকে পৈত্রিক জমি থেকে উচ্ছেদের চক্রান্ত

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বরিশাল প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রঞ্জন রায়ে (৯৮) গেজেট নং-৫০৪৭ পৈত্রিক ভিটেবাড়ি থেকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রতিবেশিরা উচ্ছেদ করে দেশান্তরিত করার অপচেষ্টা এবং হত্যা সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকী ধামকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রঞ্জন রায়ের বড় ছেলে উজিরপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নের সাকরাল গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ সূত্রে জানাযায় ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে  প্রতিবেশি জয়নাল আবেদিন হাওলাদার (৬৫) ও তার ছেলে রফিকুল ইসলাম মামুন হাওলাদার(৪০),মিটুল(৩২),ইমরান হাওলাদার(২৫) সহ আরো ৪/৫ জন মিলে কুমুদ রঞ্জন রায়ের পৈত্রিক ভোগদখলিয় ভিটেবাড়ির গাছপালা কেটে এবং পুকুরের মাছ জোর পূর্বক ধরে নেওয়ার সময় বাধা দিলে কুমুদ রায়ের ২ ছেলে মিহির রায় ও সমির রায় এবং তাদের স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তানদের উপর হামলা করে।

হামলার সাথে সাথে তাদেরকে জমিজমা ফেলে এই দেশ থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ স্বরুপ হুমকী দেয় এবং ১৯৮১ সালে কুমুদ রঞ্জন রায়ের কাছ থেকে ওই জমি (২২ শতাংশ) জয়নাল আবেদিন তার স্ত্রী হালিমুন্নেছার নামে দলিল নিয়েছে বলে জানায়।

মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রায় এখনো জীবিত থাকায় তিনি কোন দলিল দেননি বলে নিজেই বাদী হয়ে ওই দলিল বাতিলের জন্য বরিশালের সহকারী জজ আদালতে ৯৮/২০১৬ নং একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে ১৪ সেপ্টেম্বর মিহির রায়ের করা ৫৩১ নং সাধারন ডায়েরীর সূত্র ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উজিরপুর মডেল থানার এ,এস,আই মোঃ লিটন উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রতিপক্ষ জয়নাল আবেদিন দাতা কুমুদ রায়ের স্বাক্ষরিত দলিলের মুল কপি পুলিশ বা সাংবাদিকদের দেখাতে পারেনি এবং তাদের দলিলের মূলকপি ১৯৮২/৮৩ সালের দিকে হারিয়ে গেছে বলে জানান, তবে দলিল হারানোর ব্যাপারে তৎকালিন সময় তারা থানায় কোন জিডি বা আইনগত অন্য কোন উপায়ও অবলম্বন কনেনি বলেও স্বীকার করেন,সেই সাথে ১৯৮১ সালের পর থেকে তাদের এই দলিল আছে সেটা এতদিন কেন প্রকাশ করেনি এমন প্রশ্ন করা হলে জয়নাল আবেদিনের ছেলেরা কোন জবাব দিতে পারেনি।

একারনে কুমুদ রায়ের ছেলে মিহির রায় ও সমির রায় ধারনা করছেন জয়নাল আবেদিন তার স্ত্রী হালিমুন্নেছার নামে ১৯৮১ সালে একটি জালদলিল করে গোপন রেখেছিলো, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রঞ্জন রায় মৃত্যুবরন করলে তারা ওই দলিল মুলে আমাদের জমি হাতিয়ে নিয়ে আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদের মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বসেছিলো। কিন্তু না ধর্মের কল বাতাসে নড়ে,তাদের এ জঘন্য মহাপরিকল্পনা আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।

অন্যদিকে এই জমি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য প্রতিমুহুর্তেই জয়নালের ছেলেরা বৃদ্ধ কুমুদ রঞ্জন সহ তার পরিবারের লোকজনদের জীবন নাশ সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকী ধামকী অব্যাহত রেখেছে,ফলে ৭১’র রনাঙ্গনের বীর সেনানী অশিতিপর বৃদ্ধ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কুমুদ রঞ্জন রায় তার পরিবার পরিজন নিয়ে অজানা আতংক আর হতাশায় জীবন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদিনের ছেলে ইমরান হাওলাদার জানিয়েছেন প্রতিপক্ষরা দলিল বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করেছে,আমরাও আদালতে মামলায় লড়বো,আদালত থেকেই আমরা দলিলের মালিকানা নিয়ে ফিরবো।

উজিরপুর মডেল থানার কর্তব্যরত অফিসার এস,আই,হেমায়েত উদ্দিন জানিয়েছেন বিষয়টি একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে কেন্দ্র করে,সেহেতু বিষয়টি গভিরভাবে পর্যবেক্ষন করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

 


এ ক্যটাগরির আরো খবর..