বিশেষ প্রতিবেদক : যাত্রী সংকটের কারণে মোট ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বিমানের। এর মধ্যে আজ বুধবার দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এতে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ।এভাবে হজ ফ্লাইট বাতিল হলে এ বছরের হজে যাওয়ার প্রক্রিয়া বেশ শঙ্কার মুখে পড়বে বলেও মনে করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অন্যদিকে, হজযাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ১৪টি হজ ফ্লাইটের অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।
পবিত্র হজ পালনে মক্কার পথে রওনা হবেন এমন প্রতীক্ষায় রাজধানীর আশকোনা হাজি ক্যাম্পে প্রহর গুনছেন অপেক্ষমাণরা। একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিলের খবর হজযাত্রীদের অজানা শঙ্কায় ফেলে দিচ্ছে। আশকোনা ক্যাম্পের এক হজযাত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে ভিসা, ফাইল-বোর্ড বা টিকেটকিছুই দেয়নি।’
আরেক যাত্রী বলেন, ‘চারদিন ধরে আছি। রোব, সোম, মঙ্গল আজ বোধবার। কোনো নিশ্চয়তা নাই।’ ভিসা জটিলতা, এজেন্সিগুলোর অপতৎপরতা, মক্কায় হাজিদের জন্য বাড়ি ভাড়া জটিলতাসহ নানা কারণে হজযাত্রী না পেয়ে আজ দুটিসহ এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে বিমানের ১৯টি হজ ফ্লাইট।
বিমানের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। তবে এ দায় কার তা স্পষ্ট করেনি বিমান কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেক আহমেদ বলেন, ‘আমরা যে ১৪টা নিয়েছি, তার মধ্যে হয়তো আমরা এখন পর্যন্ত যা ক্যালকুলেট করেছি তাতে সাত-আটটা ব্যবহার করতে পারব আমরা। রাজস্ব আয়ের যে একটা জায়গা ছিল সেখানে যদি আপনি এটাকে গুণ-ভাগ করেন, তাহলে বলতে হয় যে, ৪০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয়ের সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’
মোসাদ্দেক আহমেদ আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি বেশ কঠিন, এখনো কিন্তু আয়ত্তের বাইরে আমি মনে করি না। এখনো এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে আমি এটা মনে করি না। এইটা সম্পর্কে আসলে সবারই একটু মনে হয় সচেতন হওয়া দরকার। কারণ এটা আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে।’ এদিকে অতিরিক্ত ১৪টি হজ ফ্লাইটের অনুমোদনের পরও সবাই হজে যেতে পারছেন কিনা তা নিশ্চিত নয়, এ জন্য বিমানকে দায়ী করছে হজ এজেন্সি অব বাংলাদেশ (হাব)।
হাবের মহাসচিব শাহাদত হোসেন তসলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য যেকোনো ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সৌদি আরব অ্যায়ারলাইন্স এখানে আছেন। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে এই সমস্যাটি থেকে উত্তরণের জন্য বিমানকেইদায়িত্ব নিতে হবে।’ তবে আর কোনো ফ্লাইট বিপর্যয় না ঘটলে ২৬ আগস্টের মধ্যে সংকট নিরসন হওয়ার আশা সংশ্লিষ্টদের।