স্বাধীনতা মানে শুধু ভূখণ্ড নয়, সাংস্কৃতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়া

স্বাধীনতা একটি অমূল্য সম্পদ। স্বাধীনতা যার নেই সে শৃঙ্খলাবদ্ধ। একটি পিঞ্জিরাবদ্ধ পাখি যেমন পেটপুরে খেয়েও মুক্ত আকাশে ডানা ঝাপটাতে না পেরে ব্যাকুল, বৃক্ষ শাখায় বসে কলকাকলিতে মেতে উঠতে না পারার বেদনায় কাতর, তেমনি একজন মানুষের জন্যও স্বাধীনতা না থাকা অতি যন্ত্রণাদায়ক, অস্বস্তিকর ও অসহনীয়।

স্বাধীনতা মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার অমূল্য দান। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে অপর কোন শক্তির অধীনে না থাকা। মানুষ যেহেতু বিবেকবান, হৃদয় ও সুমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রাণী তাই স্বাধীনতার চেতনা তার স্বভাবগত। অপর কোন সৃষ্টির কাছে সে নতি স্বীকার করবে না, অপর কোন সৃষ্টির অধীনে তার জীবন ও অস্তিত্ব বাঁধা পড়বে না এটাই তার স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্খা হওয়ার কথা।

মানুষকে আল্লাহ তায়ালা স্বাধীন করেই সৃষ্টি করেছেন। মানুষের আসল স্বভাবগত অবস্থা হচ্ছে তার স্বাধীন থাকা। এজন্য মানুষের ওপর একটি করনীয় বা দায়িত্ব অর্পিত হয়। সেটি হচ্ছে এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা, এই মস্ত দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আর তার রূপ হলো, স্বাধীনতা দানকারী মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, কাজে কর্মে কথায় জীবনের সব ক্ষেত্রে। মানুষ যখন তার এই দায়িত্ব ও করনীয় ভুলে যায়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কৃপণ হয়ে পড়ে তখনই তার উপর আসে পরাধীনতার শাস্তি।

আল্লাহ তায়ালা যখন কোন ভূখণ্ড কাউকে বা কোন জাতিকে দান করেন, তখন সে ভূখণ্ড প্রাপকদের উচিৎ শুকরিয়া আদায় করা। আর শুকরিয়া আদায়ের রূপ হলো, ক. সমাজের সর্বস্তরে ইনসাফ কায়েম করা। খ. সমাজে দ্বীন ও শরীয়ত কায়েম করা। এ সম্পর্কে  আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দিবে, এবং সৎকাজের আদেশ দিবে – অসৎকাজের নিষেধ করবে, আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।“ (সুরা হজ্জ, আয়াত: ৪১)

স্বাধীনতা একটি ভূখণ্ডের প্রাপক হিসেবে এ আয়াত থেকে আমরাও আমাদের দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ধরন জেনে নিতে পারি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাধীনতার এই নেয়ামতের কদর, মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কীভাবে মানুষের পক্ষে সহজে সম্ভব হবে? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, যারা স্বাধীনতার তাৎপর্য ও বাস্তবতা বুঝে, স্বাধীনতা-পরাধীনতার পার্থক্য বুঝে, স্বাধীনতা নেয়ামত হওয়ার জন্য যেসব নীতিমালার অনুসরণ অপরিহার্য সেগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে তাদের পক্ষেই স্বাধীনতার মূল্য দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সম্ভব।

এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তিনটি ধাপ হতে পারে।

প্রথম ধাপ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা। মানুষ যখন আল্লাহর খাঁটি বান্দা হবে, যখন আল্লাহর আহকামের সে গোলামী করবে তখনই সে সঠিক অর্থে স্বাধীন হবে। এবং সার্বিক স্বাধীনতা লাভের যোগ্য হবে।

দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে, বিজাতিদের গোলামী থেকে স্বাধীন থাকা। এ গোলামী কেবল ভৌগলিক দখল বেদখলেরই নয়, বরং এর মধ্যে সাংস্কৃতিক দাসত্বও অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম সে সাংস্কৃতিক দাসত্বকেও ঘৃণা করে। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহিওাসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং ৪০২৭)

তৃতীয় ধাপ হচ্ছে, অমূলক রুসম-রেওয়াজ ও বিদআত থেকে মুক্ত থাকা, স্বাধীন থাকা। মূলত আল্লাহর আনুগত্যের পাশাপাশি দেহের ও চিত্তের সব ধরণের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি ও আজাদীর নামেই স্বাধীনতা।

ইসলাম স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে। ইসলাম মূলত স্বাধীনতারই ঝান্ডাবাহী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।