নিজের বিয়ে নিজেই বন্ধ করলেন দশম শ্রেণীর ছাত্রী

মো. শাহাদাৎ হোসাইনঃ  নিজের বিয়ে নিজেই বন্ধ করলেন বরগুনার আমতলীর উপজেলার দশম শ্রেণির ছাত্রী শিপ্রা। মেয়ে রাজী না থাকা সত্ত্বেও বাল্য বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির অপরাধে স্কুলছাত্রীর বাবাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং একই গ্রামের পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রির মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, শিপ্রাকে না জানিয়ে গোপনে তার বাবা পুনিল চন্দ্র মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। সোমবার বর পক্ষের লোকজন শিপ্রার বাড়িতে আসার দিনক্ষণ ঠিক হয়। কিন্তু শিপ্রা বিয়েতে রাজি হয়নি। গোপনে শিপ্রা নিজের বিয়ে বন্ধ করার জন্য আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেনকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে আমতলী ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির সত্যতা পায়। এ সময় মেয়ের অমতে বাল্যবিয়ের প্রস্তুতির অপরাধে বাবা পুনিল চন্দ্রকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহসী শিপ্রাকে গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের হেফাজতে রেখে আসেন।
শিপ্রা বলেন, ‘আমার এখন লেখাপড়ার বয়স। এই বয়সে আমি আমার মূল্যবান জীবনটাকে অপাত্রে দান করতে পারব না। বাবা আমার অমতে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। আমি জানতে পেরে বাবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা এসে আমার বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বাবা পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রি নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে উপযুক্ত পাত্রের কাছে বিয়ে দেব।’
গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শিপ্রা আমার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী। শিপ্রার সাহসিকতার জন্য আজ থেকে ওর লেখাপাড়ার যাবতীয় খরচ বিদ্যালয় বহন করবে।’
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থী শিপ্রার সাহসিকাতার প্রশংসা করে বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হবে ততদিন পর্যন্ত আমার হেফাজতে রেখে ওর লেখাপড়া চালিয়ে নেব।’
আমতলী ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘শিপ্রা নিজের বিয়ে বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিপ্রাকে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির অপরাধে বাবা পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রিকে ৩ হাজার টাকা জরিমান ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছি।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিপ্রা নিজের বিয়ে বন্ধের জন্য আমার কাছে খবর দেয়। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।