সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ঘোষণা দিয়েছে ভারত ও চীন

সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ঘোষণা দিয়েছে ভারত ও চীন

সীমান্ত এলাকার কিছু বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারত-চীন সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তবে এই বিবাদের অবসান ঘটেছে। এমনটাই জানিয়েছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়া গেছেন। তার এই সফরকে ঘিরে আয়োজিত গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি এই ঘোষণা দেন। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও যোগ দেবেন।

ভারত ও চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডে ‘টহল বন্দোবস্ত’ এবং এ অঞ্চলে দুই দেশের সেনা মোতায়েন-সংক্রান্ত অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘অভাবনীয়’ বলে উল্লেখ করে তারা জানান, এই উদ্যোগে দেমচক ও দেপসাং অঞ্চলে বিদ্যমান বিরোধের অবসান হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়াং গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কিছুদিন ধরেই চীন-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশ কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশ এক সমাধানে পৌঁছেছে। চীন তা ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করেছে। আগামী দিনে ওই সমাধান সূত্র রূপায়ণে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে। লিন জিয়াং অবশ্য এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে বলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর প্রাক্‌ ২০২০ স্থিতাবস্থা ফিরে এলেই সীমান্ত থেকে সেনা সরানো নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে। তার আগে নয়। দ্বিবেদী আরও বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের অবস্থানে চীনা ফৌজকে ফিরে যেতে হবে। আপাতত সেনারা পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট। পুরোনো অবস্থানে দুই দেশের সেনারা ফিরে যাওয়ার পরেই সেনা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সীমান্তেও নজরদারি চালানো হবে স্বাভাবিকভাবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে দুই দেশেরই একাধিক জওয়ান হতাহত হন। গালওয়ান সংঘর্ষের পর লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনা উপস্থিতি প্রবলভাবে বেড়ে যায়। ভারত প্রায় ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। প্রায় সমপরিমাণ সেনা মোতায়েন করেছে চীনও। ওই সংঘর্ষের আগে থেকেই অভিযোগ আসছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে চীনা ফৌজ ভারতের ভূখণ্ডে অনেকটাই ঢুকে এসেছে। তা প্রতিহত করতে গিয়েই সংঘর্ষ। সেই থেকে সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। দুই দেশের সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক স্তরে অনবরত আলোচনাও হচ্ছে। কিন্তু ভারতের দাবি অনুযায়ী আজও ২০২০–পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা ফিরে আসেনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।