সিসিটিভি ফুটেজ রিপোর্টঃ চট্টগ্রামে পদদলিত ১০ জন হিন্দুর মৃত্যুর জন্য কে দায়ী!

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেজবান খেতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহতের ঘটনায় সিসি টিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ শেষে সংবাদ মাধ্যমকে কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি রিমা কনভেনশন সেন্টারের ত্রুটির কারণেই পদদলিত হয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। একই গেইটের দুটি পয়েন্টে পদদলিত হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, আগে থেকে রিমা কনভেনশন সেন্টারের গেইট বন্ধ থাকলেও দুপুর পৌনে দু’টার দিকে পাঞ্জাবি পড়া এক লোক হঠাৎ করেই গেট খুলে দেয়। এসময় গেইটে মাত্র একজন পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। গেইট খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুলখানিতে আসা অপেক্ষমাণ লোকজন হুড়োহুড়ি করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে।

এসময় ঢালুতে জায়গায় পড়ে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সদ্য প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানী উপলক্ষে আয়োজিত মেজবানের শুরুতেই নগরীর আসকারদিঘীর পাড় এলাকার রিমা কমিউনিটি সেন্টারে পদদলিত হয়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদপিষ্ট হয়ে আহত ১৪ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের ৯ জন ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে, ৪ জন আইসিইতে এবং একজন নিউরো মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে ১ জন ও আইসিউতে চিকিৎসাধীন ৪ জনের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান।

গত সোমবার ১০জন নিহত হওয়ার ব্যাপারে সিভিল সার্জন বলেন, হুড়োহুড়িতে জনস্রোতের পদদলনে ঘাড়, মস্তিষ্ক এবং বুকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তারা মারা গেছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের বুকের হার ভেঙে ফুসফুস স্পর্শ করেছে।

এদিকে পদদলনে আহত মোট ১৪ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চট্টগ্রাম মেডিকেলের এনেসথেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হারুনুর রশিদ জানান,আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে সুনীল কান্তি নাথ নামে একজনের অবস্থা এখনও সঙ্কটাপন্ন। এছাড়া অর্পণ বিশ্বাস (২২) ও প্রিয়জিৎ বরণ বৈদ্য (৪৬) নামে বাকি দুইজনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শীলব্রত বড়ুয়া জানান, এছাড়া অপর একজন নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।