বিশেষ প্রতিবেদকঃ যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে বা কাজ করতে গিয়ে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাওয়া সাড়ে ৬ লাখ উচ্চশিক্ষিত ভারতীয়দের গ্রিন কার্ড পেতে ১৫১ বছর লাগবে।
সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দপ্তরের (ইউএসসিআইএস) দেয়া পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে একথা জানিয়েছে ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাঙ্ক সংস্থা ‘ক্যাটো ইনস্টিটিউট’। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশিদের জন্য ইস্যু করা ‘গ্রিন কার্ড’ সংখ্যার ভিত্তিতে একথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই বছরের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে বা চাকরি করতে গিয়ে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ৬ লাখ ৩২ হাজার ২১৯ জন ভারতীয়। এদের মধ্যে আছেন অসংখ্য মহিলা ও শিশু। প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত বা দেশটিতে যেতে চান উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে।
অভিবাসীদের ‘ইবি–ওয়ান’ শ্রেণির গ্রিন কার্ড দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই কার্ড দেয়া হয় উচ্চ মেধা ও সেরা প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্য। একে বলা হয় ‘একস্ট্রাঅর্ডিনারি এবিলিটি’। মূলত আমেরিকায় চাকরি পাওয়ার ভিত্তিতেই দেয়া হয় এই ‘ইবি–ওয়ান’ বা ‘এমপ্লয়মেন্ট বেসড’ গ্রিন কার্ড।
এই ‘ইবি’ শ্রেণির গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে। যারা ভারতে স্নাতকোত্তর বা গবেষণা শেষ করেছেন খুব ভাল রেজাল্ট নিয়ে, তাদের দেয়া হয় ‘ইবি–ওয়ান’ শ্রেণির গ্রিন কার্ড।
ইউএসসিআইএসের পরিসংখ্যান অনুসারে, এই তালিকায় আছেন মোট ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন ভারতীয়। ‘ক্যাটো ইনস্টিটিউট’ বলছে, এই তালিকার প্রথম জনকে মার্কিন মুলুকের গ্রিন কার্ড পেতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ৬ বছর।
যারা স্নাতকে খুব ভালো রেজাল্ট করে আমেরিকায় গিয়ে চাকরি করতে বা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান, তাদের দেয়া হয় ‘ইবি–থ্রি’ শ্রেণির গ্রিন কার্ড। এই তালিকায় আছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৭৩ জন।
‘ক্যাটো ইনস্টিটিউটের মতে, এই তালিকার প্রথম জনকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ১৭ বছর। তবে গত বছর যত জন ভারতীয় এই ক্যাটেগরির গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, সেই নিরিখে সময় লাগবে ৬৫ বছর।
এছাড়া ‘ইবি–টু’ নামের একটা ক্যাটাগরি আছে। যারা স্নাতক পাশ করেছেন কিন্তু রেজাল্ট খুব একটা ভালো নয়, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের দেয়া হয় এই ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড।
ইউএসসিআইএসের পরিসংখ্যান মতে, এই তালিকায় আছেন মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৮ জন ভারতীয়। ভারতীয়দের ‘ইবি–টু’ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড দেয়া হয় বছরে ৭ শতাংশ।


