× Banner
সর্বশেষ
দেশে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন নড়াইলের পল্লীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে খুন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল ডাসারে যৌতুকের নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় শাশুড়ী শ্রীঘরে  ডাসারে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নতুন বঙ্গভবন প্রধান কে? সক্রিয় মৌসুমি বায়ু: দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা রাজপথে ছড়ানো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনে সরকার বদ্ধপরিকর দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন: ভরিতে কমলো ৩৩২৪ টাকা

দেবাশীষ মুখার্জী, কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সৌরভ মালো(২০) হত‍্যায় অন্ধের যষ্টি হারিয়ে শোকে কাতর বাবা-মা

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
গভীর রাতে আগুনে দগ্ধ

সৌরভ মালো(২০) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। গত বুধবার সৌরভ ঢাকা গিয়েছিল খুড়তুতো বোনের জন্মদিন পালন করতে। বৃহস্পতিবার সে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু বাড়ি আর ফিরতে পারেনি। অনেক আশা ছিল সৌরভের মা–বাবার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করবে। রোজগার করবে। সংসারের অভাব দূর হবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।

‘মা আমি ভাঙ্গা পর্যন্ত এসেছি। এখন ইজিবাইকে উঠব, বাড়িতে আসছি।’ মোবাইল ফোনে সৌরভ মালোর সঙ্গে তার মা বীথি রানী মালোর এটাই ছিল শেষ কথা। ছেলের সঙ্গে এসব কথা হয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে। কিন্তু রাত ১০টা বেজে গেলেও ছেলে ফিরে না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েন মা–বাবা। ছেলেকে বারবার ফোন করেন তারা। ফোন বাজতে বাজতে বন্ধ হয়ে যায়। ছেলে আর ফোন ধরে না।

অস্থির হয়ে বাবা স্বপন মালো চলে আসেন বাড়ি থেকে আনুমানিক ১১ কিলোমিটার দূরে ভাঙ্গায়। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত দুইটার দিকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। পরদিন শুক্রবার পুলিশের ফোন পেয়ে স্বপন ছুটে যান ভাঙ্গায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ভাঙ্গা বাজার এলাকায় সেতুর নিচে কুমার নদের তীর থেকে তার ছেলে সৌরভের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সৌরভের লাশ তুলে দেওয়া হয় স্বজনদের হাতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সৌরভের লাশ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। এরপর গ্রামের শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, সৌরভের কাছে প্রায় ২০ হাজার টাকা, হাতে স্বর্ণের আংটি, রুপার ব্রেসলেট ও মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। লাশের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, এটি ছিনতাইয়ের কোনো বিষয় নয়; এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সৌরভের প্রতিবেশী শশধর মালো (৬৩) বলেন, ‘গ্রামের সোনার টুকরো ছেলে ছিল সৌরভ। তার এ মৃত্যু আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না।’ এ হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

দুই ভাই–বোনের মধ্যে সৌরভ ছিল ছোট। তার বোন সম্পা মালো ১৪ বছর বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১১ বছর আগে। এরপর থেকে সৌরভই ছিল এই পরিবারের ‘অন্ধের যষ্টি’।

অন্যদিকে সৌরভের মা বীথি রানী মালো শোকে কাতর। তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলছিলেন, ‘আমার কাইনকে (সৌরভ) মাইরা ফেলা হইছে। ওরে কারা আমার এ সর্বনাশ করল? আমার কাইনকে ছাড়া আমি কী নিয়া বাঁচব। আমার বাবারে ফিরায় দাও।’

‘এখন কী নিয়ে বাঁচব। আমার ও সৌরভের তো কোনো শত্রু নেই। কারা আমার ছেলেরে খুন করল? আমি কী নিয়ে বাঁচব?’ বিলাপ করতে করতে বাবা স্বপন মালো সংবাদ মাধ্যমের সামনে বারবার এসব প্রশ্ন করছিলেন।

একটি দোচালা ঘর। পাশে পাঠখড়ির বেড়া দিয়ে তৈরি ছোট একটি রান্নাঘর। জানা গেছে, এটাই সৌরভদের একমাত্র সম্বল। স্বজনেরা জানিয়েছেন, সৌরভের বাবা স্বপন মালো মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর এলাকায় এক ব্যক্তির নৌকায় থেকে পদ্মায় মাছ ধরার কাজ করেন। এ সামান্য আয়ে সংসার চলত না। সৌরভ শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় তার ছোট মামা দেবু সরকারের বাড়িতে থেকে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পড়ালেখা করত। পাশাপাশি ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে শ্যামলের মাছের আড়তে খণ্ডকালীন কাজ করে কিছু রোজগার করে পড়াশোনার খরচ চালাত। এখন সব আশা, সমস্ত স্বপ্ন শেষ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..