স্টাফ রির্পোটার॥ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানা সদর বাজারের কয়েকটি ঘরভিটা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা থাকার পরও হামলা চালিয়ে প্রায় ৫০/৬০ বছরের ভোগদখলীয় বসত ঘরভিটা জবর দখল করার অভিযোগ উঠছে। নুরুল ইসলাম বাচ্চু ওরফে আদম বাচ্চু। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শশীভূষণ বাজারের অসহায় পরিবারগুলো এখন আতঙ্কে নিঘুম রাত কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শশীভূষণ মাছ বাজারের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মো. ইউছুব সওদাগর জানান, তার পিতা মৃত্যু দীল মোহাম্মদ সওদাগর দীর্ঘ ৫০/৬০ বছরের দখলীয় ঘরভিটা ও সওদাগর স্টোরের প্রায় ৭/৮লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুন্টন করে নিয়ে যায় নুরুল ইসলাম বাচ্চু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এবং তার পিতার ঘরভিটাটি জবর দখল করে। গত ৩ মে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াটার দিকে।
এদিকে ইউছুব সওদাগর ঘর দখল ও দোকান লুটের বিষয়টি শশীভূষণ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলামকে জানালে তিনি বলেন,্এ ব্যাপারে তার কিছুই করার নেই। আদালতে গিয়ে মামলা করেন।
রসুলপুর ইউনিয়নের প্রবীন আ’লীগ নেতা আঃ হাই মিয়া জানান,বিগত ৫০/৬০ বছর ধরে মাটি ভরাট করে একসনা লিজ নিয়ে পূর্ব পুরুষগন ও বর্তমানে তারা শান্তিপূর্ন ভাবে ঘরভিটা করে দোকান ভাড়া দিয়ে ও পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। জাল জালিয়াতি ভূয়া কাগজ পত্র তৈরী করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৩ ফেব্রুয়ারী বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চিহ্নিত অপরাধী ভূমিদস্যু, আদম বেপারী, নুরুল ইসলাম বাচ্চু শশীভূষন এলাকার কিছু চিহ্নিত অপরাধীসহ প্রায় ২০/২৫জন দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র সস্ত্রে সঞ্জিত হয়ে প্রবীন আ’লীগ নেতা আঃ হাই মিয়ার দোকান ভিটায় হামলা চালায় ও জবর দখলের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে আঃ হাই মিয়া তার পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা প্রদান করে। তারা কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে বরণ উল্টো আঃ হাই মিয়াকে মারপিট করে। এঘটনায় আঃ হাই মিয়া গুরুতর আহত হয়।
অভিযোগ পেয়ে শশীভূষন থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) শাহে নেওয়াজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ঐ দোকান ঘরভিটাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন ও উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলেন। এবং পুলিশ ঘটনাস্থ থেকে ভিটা জবর দখল করতে আনা আদম বাহিনীর দেশীয় কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেন।
শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের শফিকুর রহমান বাবুল মাষ্টার জানান, জাল জালিয়াতি ,ভূয়া কাগজ পত্র তৈলী করে গত ৬মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভূমিদস্যু, আদম ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাচ্চু ওরফে আদম বাচ্চু শশীভূষণের কিছু চিহ্নিত অপরাধীসহ প্রায় ২০/২৫জন দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র সস্ত্রে সঞ্জিত হয়ে তার পিতা মৃত্যু ছেলামত মাষ্টারের সৃজিত ৫০/৬০ বছরের দখলীয় ভিটা জবর দখল করে।
অভিযোগ পেয়ে শশীভূষন থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) শাহে নেওয়াজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ঐ দোকান ঘরভিটাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন ও উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলেন। তাদেরকে স্ব-স্ব কাজগপত্র নিয়ে সঠিক সমাধান হওয়ার জন্য বলেন।
পুলিশ ঘটনা স্থান ত্যাগ করার পরপরই নুরুল ইসলাম বাচ্চু ওরফে আদম বাচ্চু সেখানে বসবাস করা পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশের কাছে দাখিলকৃত অভিযোগ তুলে না নিলে দোকান ঘর ও বাসাবাড়ি খালি করে চলে না গেলে। তাদের অবস্থা পূর্বের মতো ভয়ংকার হবে বলে হুংকার দিতে থাকেন। এমতাবস্থায় এসব নিরীহ,অসহায় পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে গত ৩মে শুক্রবার দিবাগত রাতের আধাঁরে মো. ইউছুব সওদাগরের সওদাগর স্টোর দোকানে থাকা প্রায় ৭/৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং তার পিতা মৃত্যু দীল মোহাম্মদ সওদাগরের দীর্ঘ ৫০/৬০ বছরের দখলীয় ঘরভিটা জবর দখল করে, ঘরে বসে তারা এখন প্রতিদিন তাদের অন্যান্যসঙ্গীদের নিয়ে গাঁজা মদ ও জুয়ার আড্ডা বসাচ্ছে।
দোকান ঘর মালিক মো. ইউছুর সওদাগর শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাছে অভিযোগ জানালে তিনি সকল কিছু জেনে শুনে ঘটনার সত্যতা প্রমান পেয়েও কিছুই করতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়।
বিষটি নিয়ে শশীভূষণ থানা সদরে সাধারন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে ভোলা
জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তকর্তাদের আশু হস্তেক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় পরিবারগুলো।
এ বিষয় নুরুল ইসলাম বাচ্চু জানায়, এই জমি দিয়ারা রেকড সূত্রে আমি মালিক। তাই আমি আমার জমি দখল করে নিয়েছি।
এ ব্যাপারে শশীভূষন থানায় অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভিটা দখলে ব্যাপারে থানায় কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

