৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, আজ মনোনয়ন জমা

৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, আজ মনোনয়ন জমা
গণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট)। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সংসদে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ গ্যাস সংকটে ভয়াবহ লোডশেডিং, তীব্র গরমে জনজীবন ও শিল্পে বিপর্যয়

প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ দুপুরে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর দুপুর ২টার দিকে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আজ বেলা ১১টার দিকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০ আগস্ট ভোট

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।

প্রয়োজন হলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ চলবে।

ইসি জানিয়েছে, এবারের ভোটগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্যও সংসদে বসার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৫০০, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার

সংসদে ভোট দেবেন ৩৪৯ এমপি

জাতীয় সংসদের ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল থাকায় বর্তমানে নির্বাচিত সাধারণ আসনের সংখ্যা ২৯৯। এর সঙ্গে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯।

এর মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন এবং জামায়াতের ৭৭ জন। অন্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র আট, এনসিপির আট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন এবং ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিস ও জাগপার একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।

সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তবে বিরোধী জোটের প্রার্থী থাকায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

১৯৯১ সালে হয়েছিল সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন হয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটিই ছিল সংসদীয় পদ্ধতি চালুর পর প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, যেখানে দুই দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

তৎকালীন সংসদে বিএনপির ১৪০, আওয়ামী লীগের ৮৮, জাতীয় পার্টির ৩৫ এবং জামায়াতের ১৮টি আসন ছিল। এ ছাড়া বাকশাল, সিপিবি, ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্যরাও সংসদে ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

প্রকাশ্য ভোটের অভিজ্ঞতা

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ছিল প্রকাশ্য পদ্ধতিতে। ভোটাররা প্রকাশ্যে ব্যালট প্রদান করতেন এবং ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তা প্রত্যক্ষ করতেন। প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরাও ভোটদানের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতেন।

তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ ৩৫ বছর আগের সেই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে জানিয়েছেন, ভোটদানের প্রক্রিয়া ছিল প্রকাশ্য এবং দলীয় প্রতিনিধিরা কারা কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তা নোট করতেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রায় সব সংসদ সদস্য দলীয় প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীও দলীয় সদস্যদের সমর্থন পান। কয়েকটি দলের সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

সেদিন সংসদকক্ষের চারটি কক্ষে একযোগে দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টায় ভোট শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়। পরে ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং একই দিন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ফলাফল অনেকটাই অনুমেয় হলেও বিরোধী পক্ষের প্রার্থী দেওয়া নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কার্যক্রম শেষে ২০ আগস্ট সংসদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।