যশোর থেকে ই.আর.ইমন: যশোরে আইনশৃংখলা বাহিনীর টার্গেট ৩০৩ গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ী। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সাঁড়াশি অভিযানে মাঠে রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। গত এক সপ্তাহে বন্দুকযুদ্ধে সাতজন নিহত ও ৭৩ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। এক বছর আগে শীর্ষ ১৪ মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যশোর জেলা পুলিশ।
গত এক বছরে সেই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশ গা ঢাকা দিয়েছে। আবার কেউ কেউ আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে ঠাঁই নিয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকাভুক্ত গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে মাঠে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় যশোরের ৩০৩ জন গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী আইনশৃংখলা বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর রয়েছে। ওই তালিকায় সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদার রয়েছে কোতয়ালি থানার ৯৬ জন। সবচেয়ে কম বাঘারপাড়ায় একজন। এছাড়াও বেনাপোলে ১৬ জন, কেশবপুরে ২৭ জন, চৌগাছায় ২১ জন, শার্শায় ৩৮ জন, ঝিকরগাছায় ২১ জন, মণিরামপুরে ৫০ জন ও অভয়নগরে ৩৩ জনের নাম রয়েছে। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে পুলিশ ও আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী।
ইতোমধ্যে সাতদিনের অভিযানে ৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও সর্বশেষ এক সপ্তাহে যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাতজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ২১ মে ভোরে চৌগাছা উপজেলার বড় আন্দুলিয়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৫), শার্শা উপজেলার মহিষাখোলা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে মুক্তাজুর রহমান (৩০) ও শার্শার টেংরা উত্তরপাড়া জামতলা এলাকার আবদুর রহমান গাজীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম গাজী (৪৭) নিহত হন। পুলিশের দাবি, নিহত তিনজনই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। নিহত শফিকুলের বিরুদ্ধে সাতটি, মুক্তাজুরের বিরুদ্ধে পাঁচটি ও সিরাজুলের বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা রয়েছে। এর আগে ২০ মে ভোরে যশোরে শহরের শংকরপুর এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে ডালিম হোসেন যশোর-ছুটিপুর সড়কের সুজলপুর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তার বিরুদ্ধে ৬টি মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
গত ১৯ মে ভোরে অভয়নগরে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অভয়নগর উপজেলার চার নম্বর মডেল ওয়ার্ড এলাকার আব্দুল বারেক শেখের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি শেখ (৩৮), নাদের আলী মোড়লের ছেলে আবুল কালাম (৪৭) ও সাত্তার কাশারির ছেলে মিলন কাশারি (৪০) নিহত হন। নিহতদের প্রত্যেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধেও মাদক মামলা রয়েছে, দাবি পুলিশের। সর্বশেষ সাতদিনে পুলিশ ৭৩ জনকে আটক ও সাতজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলেও ২০১৭ সালের ২৪ মে জেলা পুলিশ পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ ১৪ মাদক ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
তারা হলো- যশোর শহরের চাঁচড় রায়পাড়া এলাকার মৃত ওলিয়ার রহমানের মেয়ে বেবি খাতুন, একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী রুমা বেগম, শংকরপুর এলাকার মৃত পিয়ার কাজীর ছেলে তারেক কাজী, চৌগাছার বড় কাবিলপুর গ্রামের সোনাই মন্ডলের ছেলে শফি মেম্বর, অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের আবদুল গণির ছেলে কামরুল ও বুইকারা গ্রামের মৃত হাশেম আলীর মেয়ে লিপি বেগম, বেনাপোল পোর্ট থানার ভবের বেড় গ্রামের কলুপাড়া এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম, বারোপোতা গ্রামের মোনতাজ আলীর ছেলে রিয়াজুল ইসলাম।
চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে আশরাফুল আলম, শার্শার কোটা পশ্চিমপাড়ার শের আলী দফাদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন আনা, চৌগাছার বড়কাবিলপুর গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে ইসরাইল হোসেন নুনু, শার্শার কাশিপুর-গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে আশাদুল ইসলাম আশা, বেনাপোল পোর্টথানার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত কেরামত মল্লিকের ছেলে বাদশা মল্লিক ও রঘুনাথপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে জাহাঙ্গীর। অভিযান শুরুর পর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন । আবার কেউ কেউ আদালত আত্মসমর্পণ করে কারাগারে ঠাঁই নিয়েছেন বলেও জানা গেছে ।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, যারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, তারা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে মাদক, চোরাচালান ও অস্ত্র মামলা আছে। তালিকার মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী গা ঢাকা দিয়েছে।



