× Banner
সর্বশেষ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে – ককরোচ পার্টি কালীগঞ্জে জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর যশোরে বিজিবির অভিযানে ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের ২ পিচ স্বর্ণবারসহ আটক-১ ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা -স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী শৈলকুপায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহত হরিণাকুন্ডুর সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘাটতির পর বেনাপোল কাস্টমসের নতুন লক্ষ্য ১০,৫৮৮ কোটি

যশোরে দপ্তরী হত্যার নেপথ্যে

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ২৮ মে, ২০১৬

যশোর প্রতিনিধি : যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী সাগর দত্ত আত্মহত্যা করেনি। তাকে শ্বাসরোধ হত্যা পর করা হয়। লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে। প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককের সাথে কথাকাটির জের ধরেই এ ঘটনার সুত্রপাত। সাগর দত্তের লাশ উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ঠ ঘটনা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গত ২১ মে যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী সাগর দত্ত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আত্মহত্যা মর্মে একটি রিপোর্ট দাখিল করায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি অনুসন্ধানে জানা গেছে,হত্যার প্রায় ২ সপ্তাহ আগে সাগর দত্তের কথাকাটাকাটি হয় প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মিলনের। মিলন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা ও ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমানের শ্যালক। সহকর্মীদের সামনে দপ্তরী সাগর তাকে বেশি কথা বলায় চরম অপমানবোধ করেন মিলন। তখন তিনি প্রকাশ্যে সাগরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি তখন সাগর দত্ত মোবাইল ফোনে দাপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী  এ্যাসোসিয়েশনের যশোর জেলা শাখার সভাপতিকে জানিয়ে ছিলেন।

সুত্র বলছে, প্রতিশোধ প্রবনতা থেকেই সাগর দত্তকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মিলন সাগর দত্তকে বাগে ফেলার সুযোগ খুঁজছিলেন। ঘটনার দিন প্রতিষ্ঠানের পাশে একটি বাড়িতে তাস খেলছিলেন সাগর দত্ত। বিষয়টি মিলন জানতে পেরে পূর্বের থেকে ওৎ পেতে থাকেন। এরপর তাস খেলে শেষে স্কুলে আসলে সুযোগ বুঝে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশটি প্রতিষ্ঠানের সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে ঝোলানো হয়। সাগর দত্তের লাশ উদ্ধারের সময় দেখা যায় তা দু পা ফ্লোরের সাথে লাগানো। হাটুও ভাজ করা রয়েছে। আত্মহত্যারও কোন আলামত দেখা যায়নি।

সুত্র বলছে, সাগর দত্ত হত্যার কয়েকদিন আগে মিলনের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্টানে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্যরা যোগদান করলেও সাগর দত্তকে জানানো হয়নি। মিলনের মধ্যে একটা প্রতিশোধ প্রবণতা কাজ করছিল। এজন্য কথা কাটাকাটির পর সে সাগর দত্তের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল।

সুত্র বলছে, সাগর দত্তের লাশ উদ্ধারের  পর থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মাসুদুর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক মিলনের আচরণ সন্দেহজনক। শ্যালককে বাঁচাতে মরিয়া এই প্রধান শিক্ষক। দপ্তরীদের সংগঠনের ব্যানারে এ ব্যাপারে নানা কর্মসুচি দেয়া হলেও সেখানে প্রধান শিক্ষককে দেখা যায়নি। এমনি এ নিয়ে কোন কর্মসুচি না নিতে তিনি দপ্তরীদের উপর চাপ প্রয়োগ করছেন।

সুত্র বলছে সাগর দত্তের লাশটি তখন সমাহিত না করে দাহ করতে বলেছিলেন প্রধান শিক্ষক। যাতে পরবর্তীতে হত্যার কোন আলামত না পাওয়া যায়।  কিন্তু তাতে বাঁধা দিয়েছিলেন দাপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী  এ্যাসোসিয়েশনের যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্ধ। তারা লাশটি কোন ভাবেই দাহ করতে দেননি। তখন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রাথমিক শিক্ষক কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতা দিপ্কংর দাস রতন। এক পর্যায়ে সাগরের লাশ সমাহিত করা হয়।

সুত্র বলছে, সাগর দত্তর পবিরারের লোকদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মুখ খুললে সাগর দত্তের ভাই ও ভগ্নিপতিকে হত্যা করা হবে বলে শাসানো হচ্ছে। ০১৮৭৪-০৩৯৭৪৭ নাম্বার থেকে সাগর দত্তের পরিবারের মোবাইল ফোনে কল করে কয়েক  দফা ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করলে তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ফলে এ নিয়ে মুখ খুলছে না সাগর দত্তের পরিবারের লোকজন। এমনকি সংবাদকর্মীদের কাছে তারা এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হচ্ছেন না।

এদিকে সাগর দত্ত হত্যার পর থেকে তার খুনিদের আটকের দাবিতে মাঠে নামা দাপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী  এ্যাসোসিয়েশনের যশোর জেলার নেতৃবৃন্দকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মাসুদুর রহমান। ওই সংগঠনের ব্যানারে ২৪ মে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করা হয়। এর পর জেলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, তিনি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ডেকে বলেন, ‘সাগর দত্ত আত্মহত্যা করেছে, পুলিশও আতœহত্যার রিপোর্ট দিয়েছে। এ নিয়ে বাড়বাড়ি করা তোমাদের ঠিক হচ্ছে না।’

এ নিয়ে সাংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিলেও ভয়ে সে সিন্ধান্ত পরিবর্তন করেছে দপ্তরীদের এ সংগঠনটি। এমনকি দপ্তরীদের ব্যানারে মানবন্ধন নিয়ে প্রকাশিত একটি পত্রিকার সংবাদের প্রতিবাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছে ওই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। মাসুদুর রহমানের ‘চামচা’ বলে পরিচিত শেখাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সংবাদটির প্রতিবাদ লিখে তাতে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করেছেন সংগঠনটির শীর্ষ দু’ নেতাকে। এতে সাগর দত্ত হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা পড়ার সংশয় দেখা দিয়েছে। সুত্র বলছে, সাগর দত্ত হত্যার পর সহকারী শিক্ষক মিলন বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। তার দুলাভাই মাসুদুর রহমান সব কিছু ম্যানেজ করছে। লাশ উদ্ধারের সময় এস আই তপন গিয়ে লাশের ছবি তুলে নিয়ে এসছেন। এর পর আর তিনি ওই এলাকায় যাননি। ঘরে বসেই তৈরি করেছেন অপমৃত্যুর রিপোর্ট। এ ঘটনায় মোটা অংকের অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সুত্র বলছে, হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারীকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাগর দত্তের সাথে তার দ্বন্ধ চলছিল এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার সাথে সব সময় সু সম্পর্ক ছিল। আমার বাড়িতে তাকে দাওয়াত করছিলাম। কিন্তু ব্যস্তার জন্য আসতে পারেনি। সাগরের হত্যার জন্য সহকর্মীরা আপনাকে সন্দেহ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি সে আত্মহত্যা করেছে সেটা প্রমাণ করবে পুলিশ।’ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..