খাস্তগীর সরকারি বিদ্যালয়ে স্বরস্বতী পুজার অনুমতি না দেওয়ায় মৌন প্রতিবাদ চট্টগ্রামবাসীর

রাই-কিশোরীঃ চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানের ডা.খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর স্বরস্বতী পূজা করার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। এ বছরেও একইভাবে ২০ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষিকা বরাবর একটি আবেদন করেন। কিন্তু পূজা আয়োজনে সম্মতি প্রদান করলো না স্কুল কর্তৃপক্ষ।

আজ ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সারা বাংলাদেশে স্বরস্বতী পূজা হচ্ছে। খাস্তগীর বিদ্যালয়ে পুজা করার অনুমতি না পাওয়ায় দল মত নির্বিশেষে সকল  চট্টগ্রামবাসী দুপুর ২ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মৌন প্রতিবাদ করে।

 তারা বলেন স্বরস্বতী পুজা উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন –

স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করে আসছেন।

আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা সব ধর্মের উৎসব সকলে মিলে আনন্দ-উৎসব সহকারে উদযাপন করি। সকল ধর্মের পারস্পরিক এ সম্প্রীতি আগামী দিনে আরো সুদৃঢ় হবে। দেবী স্বরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। আমি দেবী স্বরস্বতীর পূজা অর্চনা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে অটুট রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

তাহলে এই বিদ্যালয়ে কেন এত বছর ধরে ছাত্র ছাত্রীরা পুজা করার অনুমতি পাবে না। এদিকে পুজার দিনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন রাখা হয়। ছাত্র ছাত্রী অনশন করে পুজার দাবী আদায় করে, অন্যদিকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পুজা করার অনুমতি দেয়া হয় না। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীর কথা মানা হচ্ছে? নাকি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পালন করা হচ্ছে?

এ প্রসঙ্গে মাউশি’র সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ও বর্তমান শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, এটা আমি শুনেছি। ছাত্রীরা উদ্যোগ নিলে নিষেধ করাটা ঠিক হবে না। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পূজা হয়ে থাকে। না দেওয়ার তো কোন কারণ নেই। আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি তবে আমি শুনেছি।

 ডা.খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আকতার বলেন, ‘আবেদন? নাহ তো। না আমাদের এখানে হয় না। খাস্তগীরের আশেপাশে সবখানে হয়। তাই আমাদের এখানে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয় না। অন্য কোনো কারণ নেই।

সরস্বতী পূজা আয়োজনের জন্য প্রতি বছর আবেদন করে ডা. খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে কোনো বারেই রাজি হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রাতঃ ও দিবা শাখার ১২ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরস্বতী পূজা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে প্রধান শিক্ষিকা বরাবর একটি আবেদন করেন। শিক্ষার্থীদের এ আবেদনের সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কয়েকজন শিক্ষকও একাত্মতা প্রকাশ করেন কিন্তু এ আয়োজনে অনাগ্রহ দেখান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, নিজস্ব অনুষ্ঠান ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় নানান অনুষ্ঠান-আয়োজনে মুখরিত থাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সেখানে বিদ্যালয়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকার পরও আয়োজনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজন কখনও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়নি। তাছাড়া বিদ্যালয়ের আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় পূজার আয়োজন হয় এবং সেভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি তাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।