মৈত্রী বাসের অনিয়ন্ত্রিত গতিই প্রাণ নিলো জাহিদুলের

মোঃ মাসুদুর রহমান শেখ শার্শা বেনাপোল প্রতিনিধি:ভারতীয় মৈত্রী বাসগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশি প্রহরায় দ্রুতগতিতে হুইসেল বাজিয়ে চলার অভিযোগ তুলেছেন বেনাপোল বন্দরে কর্মরতরা। স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবিও তাই।

 

তাদের দাবি, সবসময় বাসগুলো অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চলে। এতে সড়কে ছোটখাট যানবাহন দ্রুত পাশ কাটাতে গিয়ে দ‍ুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।

 

দেশীয় যানবাহনের মতো ভারতীয় মৈত্রী বাসেরও গতির নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত বলে জানান তারা।

 

এ বিষয়ে পোর্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলমগীর হোসেন  বলেন, যানজট ও বিজিবি তল্লাশির জন্য মৈত্রী বাসগুলোর অতিরিক্ত সময় লেগে যায়। আবার গন্তব্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানোরও তাড়া থাকে। এজন্য তারা কিছুটা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে।

 

এদিকে নিহত চালক জাহিদুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বেনাপোল বন্দর ‍আবাসিকের বাড়িতে স্ত্রী, সন্তানদের চোখ থেকে পানি যেনো ফুরোচ্ছেই না।

 

ভারতীয় মৈত্রী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামের গাড়িচালক জাহিদুলের স্ত্রী শামিমা বেগম  বলেন, ও রোজা ছিল। সকালে নামাজ পড়ে স্যারকে নিয়ে অফিসের গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলো যশোরে। ফিরলো লাশ হয়ে। ছোট চাকরি তার। তিন ছেলে মেয়ে। কোনো রকমে সংসার চলতো। তাদের মানুষ করতে গিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছুই সঞ্চয় করতে পারেনি। এখন আমাদের কে দেখবে? ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ কি হবে?

 

জানা যায়, নিহত জাহিদুল খুলনার খালিশপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। বাংলাদেশ স্থলবন্দরে তার চাক‍রি প্রায় ২০ বছর। বেনাপোল বন্দরে আছেন দু’বছর ধরে। পরিবার নিয়ে বন্দরের আবাসিকে থাকতেন। তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে মেয়ে বড়। সে ৯ম শ্রেণীতে পড়ে। ছেলে তৃতীয় শ্রেণীতে ও অন্যজন ২ বছরের শিশু।

 

বাংলাদেশ স্থলবন্দর এমপ্লয়েজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মজুমদার  জানান, নিহতের পরিবারের জন্য তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। সরকারিভাবে যাতে সহযোগিতা পায় তার জন্য অনুরোধ করবেন। এছাড়া প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান তার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থনৈতিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকালে ভারতের ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন নিগমের অধীনে আগরতলা-কলকাতা ভায়া ঢাকার একটি মৈত্রী বাস আখাউড়া চেকপোস্ট থেকে যাত্রী নিয়ে কলকাতার যাচ্ছিলো। এসময় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের শ্যামলাগাছি নামক স্থানে বন্দরের একটি পাজারো গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন স্থলবন্দরের গাড়িচালক জাহিদুল। গুরুতর আহত হন উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও তার নিরাপত্তাকর্মী আনসার সদস্য সাইফুল ইসলাম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।