মৃৎ শিল্পের সেকাল – একাল

নয়ন লাল দেব, মৌলভীবাজার: আবহমান কাল থেকেই বাংলা ও বাঙ্গালি নামের সাথে মিশে আছে মাটির গন্ধ। মা আর মাটির সাথে এদেশের মানুষের শেখরের টান। কবির ভাষায়, আমার দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি।

এই মাটি আমাদের বেঁচে থাকার যোগান দিয়েই ক্রান্ত নয়,জীবনে প্রয়োজনের তাগিদেও একসময় মানুষ আকড়ে ধরেছিল মাটিকে। সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে মাটির ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

সংসারে ব্যাবহার্য বস্তু যেমন: হাড়ি, পাতিল,থালা,গ্লাস,কলস ইত্যাদি তৈরি হত মাটি দিয়ে। মাটির বস্তু যারা বানাতো সেই মৃৎ শিল্পিদের বলা হত কুমার । একসময় কুমার পাড়াগুলো মাটির কাঁচা গন্ধে থাকত মাতোয়ারা।

ব্যাস্ত কুমাররা হিম- শিম খেতেন চাহিদা মেটাতে। হাট বাজারে মাটির তৈজসপত্রের পসরা সাঁজিয়ে বসতেন মৃৎ শিল্পিরা। নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু ছাড়াও শিশুদের খেলনা,সৌন্দর্য বর্ধন সামগ্রীসহ বিভিন্ন বাহারি মাটির তৈজসে পূর্ণ থাকত কুমারপাড়া।

তখনকার প্রতিযোগিতার বাজারে বস্তুকে আকর্ষিত করতে দৃষ্টিনন্দিত আলপনার ছোঁয়াও  দেওয়া হত। কিন্তু আজ এসকল সবি অতীত। গাঁয়ের কুমার পাড়ায় আর কাঁচা মাটির গন্ধ পাওয়া যায় না। আধুনিক সব প্রক্রিয়াজাত থালা বাসন আর প্রয়োজনীয় বস্তুতে হারিয়ে গেছে মাটির গন্ধ।

হাট বাজারে আর মাটির তৈজসপত্রের পসরা বসে না। জীবনের তাগিদে সে সময়ের মৃৎ শিল্পিদের উত্তরসূরীরাও বেচে নিচ্ছেন অন্যান্য পেশা। মাঝে মধ্যে কোন এক মেলা কিংবা শহরের কোনে তৈজস সাজিয়ে বসা দু একজন মৃৎ শিিল্পকে দেখলেও ক্রেতা শুণ্যতায় হয়ত ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি।

কেউ কেউ আবার সৌন্দর্যবর্ধনকারী দু একটা বস্তু নিয়ে যাচ্ছেন তবে এই মৃৎ শিল্প প্রেমীদের সংখ্যা খুব একটা বেশী নয়। আরো কিছুদিন, এরপর হয়ত আগামী প্রজন্মকে বাংলার শেখরের সাথে মিশে থাকা বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্যকে পরিচিত হতে হবে জাদুগড়ে গিয়ে। বিভিন্ন শিল্পের পাশাপাশি সরকারের একটু উদ্যোগ আর সংরক্ষণে হয়ত প্রাণ ফিরে পেতে পারে মৃৎ শিল্প। এবং আগামী প্রজন্মকে যেন হারাতে না হয় এই ঐতিহ্যকে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।