মুন্সীরহাট সেতুর অভাবে ১১টি ইউনিয়নসহ লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে ॥ শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নে কীর্তিনাশা নদীতে সেতুর অভাবে ১১ ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁচেছে। বিকল্প পথে ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ততম মহাসড়ক দিয়ে চলতে হয় ৩ লক্ষ মানুষের।

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত বিড়ম্বনার শিকাড় হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মুন্সীরহাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা নিয়মিত লোকশান গুনছেন। প্রভাব পড়েছে খেঁয়া ঘাটের মাঝির উপরেও। নেতাদের প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হবে হবে বলে হচ্ছে না প্রাণের সেতুটি। ভুক্তভোগীদের প্রাণের দাবী অবিলম্বে মুন্সীরহাটে কীর্তিনাশা নদীতে সেতু করে জেলাবাসীর চলাচল সুগম করা হোক। ঝুঁকিমুক্ত করা হোক জনজীবন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, খুব শীঘ্রই এলাকাবাসীর চাহিদা মতে ব্রীজ ও সড়ক হবে। প্রকল্প ব্যয় বেশী হওয়ায় সময় লাগবে।

শরীয়তপুর জেলা শহরের সাথে ১১টি ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ডোমসারের মুন্সীরহাট হয়ে। শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলার দেওয়ানী আদালত চিকন্দীতে হওয়ায় সহজ পথ হিসেবে এ ডোমসার মুন্সীরহাট রাস্তা ব্যবহার করা হতো। তখনকার সময় মুন্সীরহাট কীর্তিনাশা নদীতে ৩২টি সাধারণ নৌকা সহ ৩টি খেয়া নৌকা লোকজন পাড়াপাড়ের দায়িত্বরত ছিল। এখন বিকল্প সড়কে ঝুঁকি নিয়ে ডোমসার সেতু ও রাজগঞ্জ সেতু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা বেশি পাড় হতে হয় সাধারণ যাত্রীদের।

মুন্সীরহাট কীর্তিনাশা নদীতে পাড়াপাড়ের দায়িত্বে থাকা মাঝি জসিম জানায়, প্রায় ৩২ বছর যাবৎ যাত্রী পাড়াপাড়ের দায়িত্বে আছি। প্রতিদিন ৩০/৩৫টি নৌকার মাধ্যমে ২০-২৫ হাজার লোকজন পাড়াপাড় করা হতো। ডোমসার ও রাজগঞ্জ নদীতে সেতু হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এখন ৪-৫শত লোকও পাড়াপাড় হয় না। এখন পাড়াপাড়ের কাজ করে তাদের পোশায় না। এ নদীতে সেতু নির্মাণ হলে যাত্রীদের ভালই হতো।

মুন্সীরহাটে কীর্তিনাশা নদীর দু’পাড়ের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম তোতা, নুর  ইসলাম ঢালী, মোঃ ফারুক জানায়, খেঁয়া পারের কারনে এ রাস্তায় জন সাধারণের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। আগে যাত্রীবাহী গাড়ি চালকগণ তারা গাড়ি রাখার জন্য ঝগড়া করতো। এখন একটা গাড়িও এ রাস্তায় আসে না। বাজারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিশ্চিত লোকশান জেনেও ব্যবসা করছি। ১ হাজার টাকার মালামালও বিক্রি করতে পারি না। নদীতে সেতু হলে পুনঃরায় জন সাধারণের চলাচল শুরু হলে বাজারের প্রাণ ফিরে পেতাম।

যাত্রীবাহী অটোবাইক চালক শাহজাহান জানায়, সারাদিন গাড়ি চালানের জন্য চার্জ নিয়ে রাস্তায় নামি। শরীয়তপুরের যাত্রী পেলে ঝুঁকি নিয়ে কোটাপাড়া ব্রীজে উঠলেই চার্জ শেষ হয়ে যায়। সারাদিন আর কাজ করতে পারি না। তাছাড়া কোটাপাড়া ব্রীজ অনেক সরু। একটা ট্রাক উঠলে পথযাত্রীর জায়গা থাকে না। তখন গাড়ি ব্যাক করতে হয়। এ ভাবে অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে। কোটাপাড়ার ব্রীজ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২শতাধিক লোক দূর্ঘটনায় মারা গেছে। তারপরেও সেই ব্রীজ দিয়ে ঝুঁকিতে শহরে যাই। মুন্সীরহাট নদীতে ব্রীজ হলে যাত্রীর সুবিধা হতো আর আমরাও গাড়ি চালিয়ে সুবিধা পেতাম।

ট্রাক চালক মোঃ ইমান হোসেন শিকদার বলেন, মুন্সীরহাট এলাকায় ট্রাক চালাই। মাঝে মধ্যে কোটাপাড়া ব্রীজ দিয়ে যেতে হয়। লোড ট্রাক নিয়ে ব্রীজে উঠতেই শরীরে ঝাঁকুনি দেয়। ব্রীজ দোলে আর পাশাপাশি দু’টি গাড়ি পাড় হতে পারেনা। নছিমন আর ট্রাক সামনা সামটি ব্রীজে উঠে পরলে লোড ট্রাক নিয়ে ব্যাকে যেতে হয়। এভাবে অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে। আর শতাধিক মানুষ মারা গেছে। সড়কের ঝুঁকি কমাতে মুন্সীরহাট এলাকায় ব্রীজ জরুরি।

ভোগান্তির শিকাড় স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলে, এমন একটা এলাকায় তাদের বাড়ি যেখান থেকে নদী পার হওয়া ছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া যায় না। নদী পাড় হতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় খেয়া ঘাটে। তাই লেখা-পড়ায় নিজেদের মনোনিবেশ করতে পারে না। ডিজিটাল বাংলার জেলা শহরে থেকে যোগাযোগের অব্যবস্থাপনার জন্য পড়াশুনার ব্যাঘাত কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রাণের দাবী মুন্সীরহাট কীর্তিনাশা নদীতে দ্রুত সেতুর ব্যবস্থা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথ সুগম করা হোক।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম তপাদার বলেন, মুন্সীরহাট এলাকা দিয়ে কীর্তিনাশা নদীতে সেতু অতি জরুরী। এতে এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাঘব হবে। সেতু নিয়ে আমি ও সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক কাজ করছি। সড়ক ও জনপদের মাধ্যমে সেতু ও সড়কের কাজ হবে। প্রকল্প ব্যয় ১শত কোটি টাকার বেশী হওয়ায় সময় লাগবে। সেতু ব্যয় ২২ কোটি টাকা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।