মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সম্পদ: -স্মরণ সভায় বক্তারা

আবু নাসের হুসাইন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথায় পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর হাতে করিমপুরের যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

মহাবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদরে সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- শহীদ কাজী সালাউদ্দীন ও মেজবাউদ্দীন নৌফেলের সহযোদ্ধা হাসনা খান রানী, মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন, বাঙ্গালি সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মো. মজিবুল হক, মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম, মহাবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আবু রাহাত খান সিরাজ প্রমুখ।

এতে হাসনা খান রানী বলেন, ওই সময়ে আজকের এ দিনে সকালে নতিবদিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অবস্থান করা কাজী সালাহউদ্দীন ও মেজবাউদ্দীন নৌফেলসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের বাড়িতে বাবা আব্দুর রশিদ খান ও মা রিজিয়া বেগমের সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিতে আসেন। বাবার নির্দেশে আমি তাদের আপ্যায়ন করাই। এ দিনই যে তাদের সঙ্গে আমাদের শেষ সাক্ষাৎ হবে তা আমরা ভাবিনি। এ সব শহীদদের স্মৃতি নিয়েই আজ বেঁচে আছি।

তিনি বলেন, নতিবদিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প হওয়ায় ও বড় ভাই আবু সাঈদ খান মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় এ ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। বড় ভাই আবু সাঈদ খান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিরক্ষার্থে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়। এ কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকল তোমরা আজীবন মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান স্বীকার করে তাদের চেতনা বাস্তবায়ন করবে। তোমাদের ভাল ভবিষ্যতের লক্ষেই তারা স্বেচ্ছায় জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।

রানী বলেন, করিমপুর যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি বড় ভাই সাঈদ খান এখনও ভুলতে পারেননি। এসব শহীদদের আত্মত্যাগের কথা ভেবেই কলেজের এ নামকরণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সম্পদ।

মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন বলেন, এক সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। কেউ শহীদ হয়েছেন কেউবা মৃত্যুবরণ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মেজবা-সালাউদ্দীনদের রক্তের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আর স্বাধীনতা পেয়েছি বলেই এই অজপাড়াগায়ে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কলেজের নামকরণও হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে রাখতে। আমি আশা করব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করে সে সম্মান তোমরা রাখবে।

মো. মজিবুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সকলের দায়িত্ব।শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকার সম্মান রক্ষা তখনই হবে যখন দেশে থেকে অন্যায় অবিচার উঠে যাবে। সুশাসন চলমান থাকবে। দেশ আজ সেদিকেই যাচ্ছে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ আজ পাকিস্থানের চেয়ে অনেক সম্মানের স্থানে অবস্থান করছে।

আবু রাহাত খান সিরাজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার বয়স আমার না হলেও আমাদের বাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান দেখেছি।

সভায় এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান লিখিত মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর বই থেকে করিমপুর অংশ থেকে পাঠ করে শোনান কলেজ অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম।

সভা পরিচালনা করেন প্রভাষক মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। এতে মহাবিদ্যালয়টির শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।