মাদারীপুরে আয়কর অফিসে ঘুষের বিনিময়ে সেবা, অভিযুক্তদের দাবি আপ্যায়ন খরচ

মাদারীপুরে আয়কর অফিসে ঘুষের বিনিময়ে সেবা, অভিযুক্তদের দাবি আপ্যায়ন খরচ

মাদারীপুরে ঘুষের বিনিময়ে আয়কর অফিসে সেবা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে মামলা দিয়ে ভয় দেখান কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও নেই কোন প্রতিকার। এতে ক্ষুব্ধ সেবা প্রত্যাশী ও সচেতন মহল। যদিও এটা ঘুষ নয়, আপ্যায়ন খরচ হিসেবে দেখছেন অভিযুক্তরা। আর, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন সহকারি কর কমিশনার।

মাদারীপুরের রাজৈরে নয়াকান্দির কৃষক দুলাল দন্ডল। জমি দলিল করতে বাধ্যতামূলক লাগবে আয়কর সনদ। সেবা নিতে আসেন উপকর কশিনারের মাদারীপুরের কার্যালয়ে। সেবার বিনিময়ে দুই হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান। পরে বাধ্য হয়ে চাহিদা মতো ঘুষ দিয়ে গ্রহণ করেন সেবা। শুধু দুলাল মন্ডলই নন, তার মতো অনেকের অভিযোগ এটি। টাকা না দিলে মামলাসহ বিভিন্ন প্রকার ভয় দেখান অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা। ফলে সেবা প্রত্যাশাীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। এতে দিনেদিনে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা কমতে পারে বলে মত সুধিজনদের। বিষয়টিকে ঘুষ নয়, অফিসের চা খরচ হিসেবে দেখছেন অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান। দাবি করেন, কাজের বিনিময়ে নিয়েছেন অর্থ। যদিও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন সহকারি কর কমিশনার।

ভুক্তভোগি দুলাল মন্ডল বলেন, কাজ করে দুই হাজার টাকা চান কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান। পরে টাকা দিলে তিনি আমাকে কাগজ দেন। সরকারি অফিসে টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়, এটা অন্যায়।

মামুন বেপারী নামে একজন বলেন, একটি ব্যাংকে সঞ্চয় রাখবো, তাই ব্যাংক কর্মকর্তারা বললো আয়কর অফিসে গিয়ে সনদ নিয়ে আসেন। পরে আয়কর অফিসে গিয়ে আলাপ করি, তাদের একজন দুই হাজার টাকা চাইছে। টাকা দিলেই সাথে সাথে সনদ দিবে। পরে আর যাওয়া হয়নি।

মাদারীপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য খান মোহাম্মদ শহীদ বলেন, মাদারীপুর জেলায় নিবন্ধিত করদাতা ৪৮ হাজার থাকলে কর প্রদানকারীর সংখ্যা ১১ হাজার। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কর আদায় হয়েছে ১১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সরকার নির্ধারিত আয়ের উপরে ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত কর প্রদান করতে হয়। সেক্ষেত্রে হয়রানি ও ভোগান্তি মুক্ত সেবা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে প্রতিনিয়ত করপ্রদানকারীর সংখ্যা কমে যাবে।

মাদারীপুরের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমি কখনই কারো কাছে টাকা চাই না। যদি কেউ খুশি হয়ে কিছু দেয়, তাহলে সেটা চা খরচ হিসেবে রেখে দেই। ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ সঠিক নয়।

মাদারীপুরের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারি কর কমিশনার মো. ইনজামাম উল হক বলেন, আমি এই অফিসে যোগদান থেকে শুরু করে এখনো কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। টাকার বিনিময়ে কেউ সেবা নিয়েছে এমন অভিযোগ লিখিত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।