এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে ‘হত্যা পরিকল্পনার’ অভিযোগ দলীয় জনপ্রতিনিধির

এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে ‘হত্যা পরিকল্পনার’ অভিযোগ দলীয় জনপ্রতিনিধির
যশোর প্রতিনিধি: যশোর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি, সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে ‘হত্যা পরিকল্পনার’ অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বিপুল।
আজ রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মো. আনোয়ার হোসেন বিপুল এ অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার কাছে খবর আছে- যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের কাঁঠালতলাস্থ ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বসে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওই অফিসে বসেই তার নির্দেশে আমার বিরুদ্ধে তার ক্যাডাররা নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হত্যার এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আমি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। আগামীকাল (৭ সেপ্টেম্বর) নাগাদ এই ঘটনায় আদালতে মামলা করা হবে।
তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে শাহীন চাকলাদার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ওই পদে (উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান) জননেত্রী শেখ হাসিনা নমিনেশন দিলে আমি নির্বাচন করতে ইচ্ছুক।
তিনি দাবি করেন, আমার জনপ্রিয়তায় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার (শাহীন চাকলাদারের) ক্যাডাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্যান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, করোনাকালে যশোরের পেপসি গোডাউন থেকে কিছু চাল, ডালসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী আটক করা হয়। কর্মহীনদের মাঝে বিতরণের জন্য প্যাকেট করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেগুলো আটক করে। পরে বৈধ কাগজপত্র দেখে আদালত সেই ত্রাণ সামগ্রী আবার ফেরত দিয়েছেন। এই ঘটনাটিকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে চাল চুরির অপবাদ দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়।
তার দাবি, মূলত আমার জনপ্রিয়তার কারণে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়া প্রতিপক্ষ এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে অপপ্রচার চালায়। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় আইসিটি আইনে অভিযোগও করেছি। সম্প্রতি আবারও তাদের সেই অপপ্রচার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৩১ আগস্ট যশোর জেলা ছাত্রলীগ আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন যশোর জেলা ছাত্রলীগের কোন কমিটি না থাকায় এবার সেই আয়োজন করে যশোর সদর উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগ। সেই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা কাজী নাবিল আহমেদ প্রধান অতিথি ছিলেন। আর প্রধান বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য রাখি। এটা ছিল যশোর ছাত্রলীগের শোকদিবসের আগের থেকে নির্ধারিত কর্মসূচি।
ওই দিনই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আয়োজনে শোকদিবসের আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই বক্তৃতা দড়াটানা ভৈরব চত্বরের অনুষ্ঠানে সরাসারি সম্প্রচার করা হয়। দড়াটানার সেই অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী উপস্থিত হয়। শোকদিবসের এই কর্মসূচি পালন নিয়েও তারা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি যশোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও শহর ছাত্রলীগের প্যাড ব্যাবহার করে রুচিহীন শব্দ প্রয়োগ করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই, ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করে এমন ভাষা প্রয়োগের কোনও সুযোগ নেই। এছাড়া যারা এই প্যাড ব্যবহার করেছেন তারা অনেক আগের ছাত্রলীগের রাজনীতি করার যোগ্যতা হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক এমএম রবিউল ইসলাম ও পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রনি বিবাহিত। বিবাহিত কোনও ব্যক্তির ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকার সুযোগ নেই। তাই আমি ছাত্রলীগের প্যাড অপব্যবহারকারী ও বিবাহিতদের নেতৃত্বে থাকা সদর উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা, সদর উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যে কামরুল গাজী, রেজাউল আলম মিথুন, খন্দকার শরিফুল ইকবাল, জাবের হোসেন, মাহবুব আলম বিদ্যুৎ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নোট : এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের সেলফোনে কয়েকদফা চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।