ধর্ষণ মামলায় জামিনে বেরিয়ে ভুক্তভুগী কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ মোর্শ্বেদ

ধর্ষণ মামলায় জামিনে বেরিয়ে ভুক্তভুগী কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ মোর্শ্বেদ

ধর্ষণ মামলায় জেলে গেলে মোর্শ্বেদ  জয় (২০) জামিনে মুক্ত হয়ে  প্রতিশোধ নিতে ফের দাদি ও বোনের সামনে থেকে ভুক্তভুগী কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ।

এ ঘটনায় বুধবার (৯ এপ্রিল) বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আট জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাবা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।

ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামীরা হলেন— আমতলী উপজেলার হলদিয়া গ্রামের মো: জসিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে : মোর্শ্বেদ জয় (২০) ও তার সহযোগী মো: নাহিদ মোল্লা, মো: এনায়েত হাওলাদার, মো: জসিম, মো: ইমরান গাজী, শিরিনা আক্তার রুবি, লিপি বেগম ও নাহার বেগম।

ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে এইচএসসি পাশ করেছে। ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর তাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে একই এলাকার মোর্শ্বেদ জয়, মো: নাহিদ মোল্লা ও মো: এনায়েত। সে সময় এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

আসামীরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত জেল হাজতে থাকার পর জামিনে ছাড়া পায়। সেই মামলাটি বর্তমানে পটুয়াখালীর আদালতে চলমান রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় এবং সেই মামলায় জেল খাটার জেরে প্রতিশোধ নিতে গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ভুক্তভোগীকে নিজের ঘর থেকে ছোটো বোন ও দাদির সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা রামদা ছেনাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।

এ সময় ছোটো বোন ও দাদি বাঁধা দিলেও তাদের আটকাতে পারেননি তারা। ভুক্তভোগীর মুখ বেঁধে মোটরসাইকেলে তুলে মোর্শ্বেদ ও নাহিদ তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এ সময় অভিযুক্তরা বাড়িতে লুটপাট চালায় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

মামলার বাদি বলেন, আমি ব্যবসায়ীক কাজে বাইরে ছিলাম। আমার স্ত্রী একজন শিক্ষিকা।

ঘটনার সময় তিনি স্কুলে ছিলেন। দিনের বেলায় সিনেমা স্টাইলে জয় ও তার সহযোগীরা আমার ঘরে ঢুকে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। আমি আগে কেন মামলা করে তাদের জেল খাটিয়েছি। সেই আক্রোশে আমার মেয়েকে আবারও তারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। আমার ধারণা জয় আবার আমার মেয়েকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। মেয়েকে কোথাও খুঁজ না পেয়ে আদালতে মামলা করেছি। আমার মেয়ে বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না। তবে আমার মেয়ে আসামীদের দখলে আছে।

এই বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামী মোর্শেদ জয়ের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, আদালতের আদেশ এখনো হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেলে আসামীদের গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।