স্টাফ রিপোর্টার, যশোর : যশোরের ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে টিআরএম চালুসহ ৫দফা দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে আজ দুপুর ১টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
সংগঠনের আহবায়ক রণজিৎ বাওয়ালীর নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অবস্থান নেন। এসময় তারা কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধান ফেলে রেখে প্রতিবাদ জানান। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ফের নিমজ্জিত হয়েছেন তারা। বাড়ি, মাঠ-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির সবকিছু পানির নিচে। এতে করে কর্মসংস্থান যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি তাদের সন্তানরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিমুখ হয়ে পড়েছেন।
বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জলাবদ্ধতাকে ঘিরে ব্যবসা শুরু করায় এর থেকে পরিত্রাণ মিলছে না। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরজমিনে জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন ও কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সংগঠেনর আহবায়ক রণিজৎ বাওয়ালী বলেন, পানি উন্নয়ন সেচ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করেছে। এটা বাস্তবায়ন হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের সাথে সাথে এ অঞ্চলের মানুষের ক্ষতি বাড়বে বৈ কমবে না।
তিনি আরো বলেন, ভবদহ দুঃখের মূল নায়ক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এর সাথে জড়িত স্থানীয় নেতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা এ অঞ্চলের মানুষকে উচ্ছেদ করে পুরো এলাকাকে মৎস্য চাষে ব্যবহার করতে চায়। আমি প্রধানমন্ত্রীর সরাসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
আর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয় ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে ৫০/৬০ কিলোমিটার নদী হত্যা করেছে। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঘের মালিকদের নিয়ে একটি লুটপাটের চক্র গড়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষ আজ তাদের হাতে বন্দি। পাম্পে সেচ দিয়ে জলাবদ্ধতা সমস্যরা সমাধান হবে না। এজন্য টিআরএম চালু করতে হবে। এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজকের অবস্থান কর্মসূচি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি।




