× Banner
সর্বশেষ
আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস : সরকারি ছুটি, দেশজুড়ে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও নানা কর্মসূচি আজ বুধবার (৫ আগস্ট) আপনার রাশিফলে কী রয়েছে আজ ৫ আগস্ট বুধবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে শ্যামনগরে জনসম্মুখে পোড়ানো হল জব্দকৃত চায়না দুয়ারি জাল তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান আইসিসিআর স্কলারশিপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়বে – ভারতীয় হাইকমিশনার দেশে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের আড়াই লাখেরও বেশি ব্যক্তি পাবেন মাসিক সম্মানি যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল – পার্থ মাদারীপুরে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থদের সঙ্গে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও ইতালি দূতাবাসের মতবিনিময় নদী দূষণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

বেনাপোল বন্দরে ভারত ভ্রমনে ৯ লাখ যাত্রী কমায় রাজস্ব ঘাটতি ৫১ কোটি

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১

মোঃ মাসুদুর রহমান শেখ বেনাপোলঃ করোনার প্রভাবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী যাতায়াতে শর্ত আরোপে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত বছর (২০২০) ভ্রমন ক্ষাতে সরকারের রাজস্ব কমেছে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫০ টাকা। এবছর ৩ লাখ  ৪ হাজার ৫০০ জন দেশ,বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছে।
এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমন কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৯ সালে এপথে ভারতে যায় ১২ লাখ  ৫৫ লাখ  ৯০০ জন যাত্রী। এসময় ভ্রমন কর বাবদ ৬৮ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। নানান প্রতিবন্ধকতায় ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে যাত্রী যাতায়াত কমেছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ জন।
বুধবার(১৩জানুয়ারী) বিকালে ভ্রমন কর বাবদ রাজস্ব আয়কারী বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আকতার ফারুক ও বন্দরের সহকারী পরিচালক হিমেল জাহান যাত্রী পরিসংখ্যান ও রাজস্ব আদায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ১৯৭২ সাল থেকে বৈধভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাসপোর্টে ভারত যাতায়াত শুরু হয়। বেনাপোল থেকে কলকাতা শহরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। বেনাপোল থেকে রওনা দিয়ে ট্রেন ও বাসযোগে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় কলকাতা শহরে। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রথম থেকে এ পথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য করে থাকে।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর আদায়ে কাজ করে থাকে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাত্রী প্রতি ৫০০ এবং বন্দরের ৪৮ টাকা ভ্রমন কর নেওয়া হয়। কিন্তু গেল বছর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের স্থলও রেলপথে পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বন্ধ হয় আকাশ পথেও যাত্রী যাতায়াত। এতে যাত্রী যাতায়াত যেমন আশঙ্কাজনক হারে কমে আসে তেমনি ভ্রমন খাতে সরকারের আয় কমে যায়। পরবর্তীতে চার মাস পর শর্ত সাপেক্ষ্যে গত ১৫ আগস্ট থেকে কূটনীতিক, অফিশিয়াল, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসাধারীদের যাতায়াতে সুযোগ হয়। তবে এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে ট্যুরিষ্ট ভিসায় ভ্রমন।
এদিকে, প্রতিবছর এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হলেও এখানে যাত্রীসেবা বাড়েনি। অবকাঠামো উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সেবার নামে বন্দরের ট্যাক্স আদায় করা হলেও বন্দরে তেমন কোনো সেবা নেই যাত্রীদের। ইমিগ্রেশনে যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ভারতগামী যাত্রী মোহাম্মদ আলী বলেন, অনেক কষ্টে তিনি মেডিকেল ভিসা পেয়েছেন। তবে ৬ মাসের ভিসা দিলেও মাত্র একবার ভ্রমনের সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসা শেষ করতে এতদিন একধানে ভারতে অবস্থান করা অনেক ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে যদি পূর্বের মত ৩ বার যাতায়াতের সুযোগ থাকতো অনেক উপকৃত হতেন চিকিৎসা সেবীরা।
বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক হিমেল জাহান জানান, করোনার প্রভাবে যাত্রী যাতায়াত কমে এসেছে। এতে ভ্রমন ক্ষাতে সরকারের আয় কমেছে। যাত্রী যাতায়াত সুবির্ধাতে নতুন জাইগা অধিগ্রহনের পরিকল্পনা ও প্যাছেঞ্জার টার্মিনালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আহসান হাবিব জানান, বর্তমানে ভারতগামী যাত্রীদের ৯০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসায় এবং ১০ শতাংশ যাচ্ছে ব্যবসা ও সরকারী কাজে। ট্যুরিষ্ট ভিসা এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। ভারত যাওয়া ও ভারত থেকে ফেরার পথে যাত্রীদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করা নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..